ঢাকা ০৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলা: ইরানের সর্বোচ্চ নেতাসহ শীর্ষ সামরিক কমান্ডারেরা নিহত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো নজিরবিহীন যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফসহ সামরিক ও রাজনৈতিক প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শনিবার স্থানীয় সময় সকাল থেকে শুরু হওয়া এই যৌথ অভিযানে ইরানের প্রতিরক্ষা বিভাগের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা পরিষদের বৈঠক চলাকালে চালানো হামলায় সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দোলরহিম মৌসাভি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ নিহত হন। একই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপৌর এবং সুপ্রিম ডিফেন্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আলী শামখানি।

অন্যদিকে, ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রাসাদ লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এতে সর্বোচ্চ নেতার বাসভবনটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। এই হামলায় খামেনি ছাড়াও তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন তার কন্যা, জামাতা এবং নাতি।

ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক হামলা রবিবার সকালেও অব্যাহত ছিল। সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্বের এমন অপূরণীয় ক্ষতিতে দেশটি বর্তমানে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এই ঘটনা পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে এক ভয়াবহ মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এই হামলার পর ইরানের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলা ও খামেনির শাহাদাত: ছাত্রশিবিরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলা: ইরানের সর্বোচ্চ নেতাসহ শীর্ষ সামরিক কমান্ডারেরা নিহত

আপডেট সময় : ০২:৩৮:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো নজিরবিহীন যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফসহ সামরিক ও রাজনৈতিক প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শনিবার স্থানীয় সময় সকাল থেকে শুরু হওয়া এই যৌথ অভিযানে ইরানের প্রতিরক্ষা বিভাগের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা পরিষদের বৈঠক চলাকালে চালানো হামলায় সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দোলরহিম মৌসাভি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ নিহত হন। একই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপৌর এবং সুপ্রিম ডিফেন্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আলী শামখানি।

অন্যদিকে, ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রাসাদ লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এতে সর্বোচ্চ নেতার বাসভবনটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। এই হামলায় খামেনি ছাড়াও তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন তার কন্যা, জামাতা এবং নাতি।

ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক হামলা রবিবার সকালেও অব্যাহত ছিল। সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্বের এমন অপূরণীয় ক্ষতিতে দেশটি বর্তমানে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এই ঘটনা পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে এক ভয়াবহ মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এই হামলার পর ইরানের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।