ঢাকা ০৮:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

শ্রীবরদীতে ঠিকাদার উধাও: ১৮ মাস ধরে বন্ধ সড়ক সংস্কার, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজ মাঝপথে বন্ধ করে ঠিকাদার আত্মগোপন করায় দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে কাজ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় সড়কটি এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে, যার ফলে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। অথচ জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ঝগড়ার চর বাজার থেকে হেরুয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২৩ সালে এই উন্নয়ন কাজ শুরু করে ‘বরেন্দ্র কন্সট্রাকশন’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ রয়েছে, কাগজপত্রে বরেন্দ্র কন্সট্রাকশনের নাম থাকলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা মূলত কাজটি পরিচালনা করছিলেন। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তারা আত্মগোপনে চলে গেলে সড়কের কাজও সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দেড় বছরের বেশি সময় পার হলেও কাজ পুনরায় শুরু করার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশার কারণে রাতের বেলা চলাচল করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সরু রাস্তায় দুটি যানবাহন একে অপরকে অতিক্রম করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

স্থানীয় অটোরিকশা চালক সাইফুল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রায় দেড় বছর ধরে রাস্তাটি এভাবে পড়ে আছে। ভাঙা রাস্তায় গাড়ি চালাতে গিয়ে যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আয়ের বড় একটা অংশ মেরামতেই চলে যায়। আমাদের কষ্টের কথা কেউ ভাবছে না।”

একই এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, সড়কটি দিয়ে বাজারে যাতায়াত করা এখন আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, কৃষক আমের আলী বলেন, “রাস্তা খারাপ হওয়ায় ভ্যান বা পিকআপ ভাড়া অনেক বেশি দিতে হয়। কষ্ট করে ফসল ফলিয়েও যাতায়াত খরচের কারণে আমরা লাভের মুখ দেখছি না।”

এ বিষয়ে শ্রীবরদী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মশিউর রহমান জানান, ঠিকাদার দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকায় কাজ বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত নোটিশ দিয়েছি। জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রধান কার্যালয়ে জানানো হয়েছে এবং সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমান কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করার প্রক্রিয়া চলছে।”

ভোগান্তি নিরসনে দ্রুত নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করে সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশিষ্ট রত্ন হুরুন নাহার রশীদের জীবনাবসান, শোকস্তব্ধ আমার দেশ পরিবার

শ্রীবরদীতে ঠিকাদার উধাও: ১৮ মাস ধরে বন্ধ সড়ক সংস্কার, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

আপডেট সময় : ০৬:০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজ মাঝপথে বন্ধ করে ঠিকাদার আত্মগোপন করায় দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে কাজ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় সড়কটি এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে, যার ফলে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। অথচ জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ঝগড়ার চর বাজার থেকে হেরুয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২৩ সালে এই উন্নয়ন কাজ শুরু করে ‘বরেন্দ্র কন্সট্রাকশন’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ রয়েছে, কাগজপত্রে বরেন্দ্র কন্সট্রাকশনের নাম থাকলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা মূলত কাজটি পরিচালনা করছিলেন। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তারা আত্মগোপনে চলে গেলে সড়কের কাজও সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দেড় বছরের বেশি সময় পার হলেও কাজ পুনরায় শুরু করার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশার কারণে রাতের বেলা চলাচল করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সরু রাস্তায় দুটি যানবাহন একে অপরকে অতিক্রম করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

স্থানীয় অটোরিকশা চালক সাইফুল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রায় দেড় বছর ধরে রাস্তাটি এভাবে পড়ে আছে। ভাঙা রাস্তায় গাড়ি চালাতে গিয়ে যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আয়ের বড় একটা অংশ মেরামতেই চলে যায়। আমাদের কষ্টের কথা কেউ ভাবছে না।”

একই এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, সড়কটি দিয়ে বাজারে যাতায়াত করা এখন আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, কৃষক আমের আলী বলেন, “রাস্তা খারাপ হওয়ায় ভ্যান বা পিকআপ ভাড়া অনেক বেশি দিতে হয়। কষ্ট করে ফসল ফলিয়েও যাতায়াত খরচের কারণে আমরা লাভের মুখ দেখছি না।”

এ বিষয়ে শ্রীবরদী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মশিউর রহমান জানান, ঠিকাদার দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকায় কাজ বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত নোটিশ দিয়েছি। জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রধান কার্যালয়ে জানানো হয়েছে এবং সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমান কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করার প্রক্রিয়া চলছে।”

ভোগান্তি নিরসনে দ্রুত নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করে সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।