রাজশাহীর তানোর উপজেলা জুড়ে শিশু-কিশোরদের মধ্যে স্মার্টফোন আসক্তি এক গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিভাবক ও শিক্ষকমহল থেকে আসা অভিযোগগুলো একই সুরে বলছে – অত্যাধিক মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ হ্রাস পাচ্ছে, যা তাদের বই পড়ার অভ্যাসকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
রমজান মাস, যখন স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় শিশুদের অবসর সময় বেশি থাকার কথা, তখনও এই আসক্তি কমেনি। বরং অনেক ক্ষেত্রে তা আরও বেড়েছে বলে জানা গেছে। শিশুরা তাদের অবসর সময়ের সিংহভাগ ব্যয় করছে বিভিন্ন গেম খেলে অথবা ভিডিও দেখে। এর ফলে, মাঠে খেলাধুলা এবং সমবয়সীদের সাথে সামাজিক মেলামেশা আগের চেয়ে অনেকটাই কমে গেছে।
একটি স্থানীয় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আক্ষেপ করে বলেন, “আগে কোনো প্রশ্ন বা তথ্য জানার প্রয়োজন হলে শিক্ষার্থীরা বইয়ে খুঁজত, এখন তারা সরাসরি মোবাইলই হাতে নেয়। এর ফলে তাদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
বাংলা বিভাগের একজন প্রভাষক, তাহমিদ মাহামুদ, এই প্রসঙ্গে বলেন, “সৃজনশীল ও বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নের উত্তর প্রদানে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা বাড়ছে। এর প্রধান কারণ হলো পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়া।” স্থানীয় এক প্রধান শিক্ষক, এরফান আলী, জোর দিয়ে বলেন, “প্রযুক্তি আমাদের জীবনে অপরিহার্য হলেও এর নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহার ক্ষতিকর। এই সমস্যা মোকাবেলায় পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”
‘সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক’ তানোর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক, মিজানুর রহমান, অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় না দিলে তারা সহজেই ভার্চুয়াল জগতে ডুবে যায়, যা তাদের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে।”
শিক্ষাবিদদের মতে, এই আসক্তি কমাতে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মোবাইল ব্যবহার সীমিত করা, পরিবারে বই পড়ার একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা এবং শিশুদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান জানান, “রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও শিশুদের সঠিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পরিবারের। আমরা স্কুলভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং অভিভাবক সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা করছি। প্রযুক্তিকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”
রিপোর্টারের নাম 























