ঢাকা ০৬:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ছাত্রাবাসের টিন বিক্রি: বহিষ্কৃত দুই ছাত্রদল নেতা, অধ্যক্ষের দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২০:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

জামালপুরের ইসলামপুর সরকারি কলেজে ছাত্রাবাসের টিন বিক্রির ঘটনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল তাদের কলেজ শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে। এই ঘটনায় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও হোস্টেল সুপারকে ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকও কলেজের রান্নাঘরের টিন বিক্রির ঘটনায় তাদের অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগ উঠেছে, কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি সাব্বির খান ও সাধারণ সম্পাদক কলেজের রান্নাঘরের টিন বিক্রি করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাদের সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে, অব্যাহতি পাওয়া কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি সাব্বির খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের কাছে লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে কলেজ ফান্ডে ১০ হাজার টাকা জমা দিয়ে কলেজের রান্নাঘরের টিন কিনে নেওয়া হয়েছে। খুলে বিক্রি করার অভিযোগ সঠিক নয়। নিলাম ছাড়া বিক্রি করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ দায় তাদের।”

এ বিষয়ে ইসলামপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আহাম্মদ আলী বলেন, “এই বিষয়ে হোস্টেল সুপারের সাথে কথা বলুন। রান্নাঘরের মালামাল নেওয়ার জন্য দুই ছাত্রনেতা আবেদন করেছিলেন। বিষয়টি দেখভালের জন্য হোস্টেল সুপারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল।” তবে, নিলামে বিক্রির নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

অন্যদিকে, হোস্টেল সুপার হাফিজুর রহমান প্রথমে দাবি করেন যে ছাত্রদলের নেতারা টাকা ছাড়াই মালামাল নিয়ে গেছেন। তবে পরে তিনি জানান, লিখিত আবেদন করার পর ১০ হাজার টাকায় তাদের কাছে মালামাল বিক্রি করা হয়েছে। নিলামে বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, “প্রিন্সিপাল স্যার যেভাবে আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, আমি সেভাবেই দায়িত্ব পালন করেছি।”

এই ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উজিরপুরে অগ্নিকাণ্ডে ৫ পরিবারের স্বপ্ন ভস্ম, লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

ছাত্রাবাসের টিন বিক্রি: বহিষ্কৃত দুই ছাত্রদল নেতা, অধ্যক্ষের দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা

আপডেট সময় : ০৫:২০:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জামালপুরের ইসলামপুর সরকারি কলেজে ছাত্রাবাসের টিন বিক্রির ঘটনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল তাদের কলেজ শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে। এই ঘটনায় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও হোস্টেল সুপারকে ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকও কলেজের রান্নাঘরের টিন বিক্রির ঘটনায় তাদের অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগ উঠেছে, কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি সাব্বির খান ও সাধারণ সম্পাদক কলেজের রান্নাঘরের টিন বিক্রি করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাদের সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে, অব্যাহতি পাওয়া কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি সাব্বির খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের কাছে লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে কলেজ ফান্ডে ১০ হাজার টাকা জমা দিয়ে কলেজের রান্নাঘরের টিন কিনে নেওয়া হয়েছে। খুলে বিক্রি করার অভিযোগ সঠিক নয়। নিলাম ছাড়া বিক্রি করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ দায় তাদের।”

এ বিষয়ে ইসলামপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আহাম্মদ আলী বলেন, “এই বিষয়ে হোস্টেল সুপারের সাথে কথা বলুন। রান্নাঘরের মালামাল নেওয়ার জন্য দুই ছাত্রনেতা আবেদন করেছিলেন। বিষয়টি দেখভালের জন্য হোস্টেল সুপারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল।” তবে, নিলামে বিক্রির নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

অন্যদিকে, হোস্টেল সুপার হাফিজুর রহমান প্রথমে দাবি করেন যে ছাত্রদলের নেতারা টাকা ছাড়াই মালামাল নিয়ে গেছেন। তবে পরে তিনি জানান, লিখিত আবেদন করার পর ১০ হাজার টাকায় তাদের কাছে মালামাল বিক্রি করা হয়েছে। নিলামে বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, “প্রিন্সিপাল স্যার যেভাবে আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, আমি সেভাবেই দায়িত্ব পালন করেছি।”

এই ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।