ঢাকা ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ট্রানজিশনাল পিরিয়ডের সুযোগ নিয়ে ফের তৎপর হচ্ছে আওয়ামী লীগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৫:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

গত বছরের মে মাস থেকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও নির্বাচন-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন ও নতুন সরকার গঠনের মধ্যবর্তী ‘ট্রানজিশনাল পিরিয়ড’ বা রূপান্তরকালীন সময়ের সুযোগ নিয়ে ফের তৎপর হয়ে উঠছে দলটির নেতাকর্মীরা। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এই তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভোটের পরবর্তী মাত্র ছয় দিনে (১৩ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি) সারাদেশে অন্তত ৩৪টি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটিয়েছে দলটির বিভিন্ন স্তরের কর্মীরা। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ, নতুন করে ব্যানার ও সাইনবোর্ড টানানো, দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং ঝটিকা জমায়েত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, ক্ষমতার এই পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ আবার মাঠে নামার চেষ্টা করছে এবং বিষয়টি নিয়ে সরকারকে ইতোমধ্যে অবগত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ ভোটের ঠিক আগেই জামিনে মুক্ত হয়েছেন। বারবার গ্রেপ্তার হওয়া সত্ত্বেও জামিন পাওয়ার পর এই অংশটিই এখন রাজপথে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ নির্বাচনে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন জোট বা প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার সুযোগ পাওয়ার কারণে দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ বিরোধিতার জায়গাটি কিছুটা শিথিল হয়েছে, যার ফায়দা তুলছে নিষিদ্ধ এই দলটি। পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভোটের পর থেকে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত সময়টিকে তারা সুযোগ হিসেবে নিতে চেয়েছিল। তবে পুলিশ সজাগ রয়েছে এবং এরই মধ্যে দিনাজপুর, নোয়াখালী ও নারায়ণগঞ্জ থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ একটি বিশেষ কৌশল হাতে নিয়েছে। সরাসরি রাজনৈতিক ব্যানারের বদলে ইফতার মাহফিল আয়োজন কিংবা গরিব ও দুস্থদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণের নাম দিয়ে তারা ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার পরিকল্পনা করেছে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় কার্যালয় খোলা হয়েছে এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ঝটিকা মিছিলের ঘটনাও ঘটেছে। গত বুধবার নারায়ণগঞ্জে জেলা ও মহানগর কার্যালয়ের সামনে ব্যানার টানানো, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় পতাকা উত্তোলন এবং চট্টগ্রামে কারাবন্দিদের পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে তারা নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে। ময়মনসিংহের তারাকান্দা এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুরেও বড় ধরনের জমায়েত ও পতাকা উত্তোলনের খবর পাওয়া গেছে।

তবে আওয়ামী লীগের এই তৎপরতা সব জায়গায় নির্বিঘ্ন হচ্ছে না। অনেক স্থানে সাধারণ জনতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা এসব প্রচেষ্টাকে রুখে দিচ্ছেন। কুড়িগ্রামে দলীয় কার্যালয়ে ব্যানার টানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা ভাঙচুর করা হয়েছে এবং বরিশালে ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ সম্বলিত ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ ছাড়া রাজবাড়ী, হবিগঞ্জ ও শরীয়তপুরেও আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কার্যালয় খোলার চেষ্টা করলে স্থানীয়ভাবে বাধার মুখে পড়েন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে আওয়ামী লীগের এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কঠোর কোনো দিকনির্দেশনা না আসায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মূলত সতর্ক পর্যবেক্ষণ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী গ্রেপ্তারের নীতি অনুসরণ করছে। তবে রমজানে যদি এই তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পায়, তবে সরকার পুনরায় হার্ডলাইনে যেতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সমীকরণ: চীন থেকে অত্যাধুনিক সুপারসনিক মিসাইল কিনছে ইরান

ট্রানজিশনাল পিরিয়ডের সুযোগ নিয়ে ফের তৎপর হচ্ছে আওয়ামী লীগ

আপডেট সময় : ০৩:১৫:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গত বছরের মে মাস থেকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও নির্বাচন-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন ও নতুন সরকার গঠনের মধ্যবর্তী ‘ট্রানজিশনাল পিরিয়ড’ বা রূপান্তরকালীন সময়ের সুযোগ নিয়ে ফের তৎপর হয়ে উঠছে দলটির নেতাকর্মীরা। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এই তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভোটের পরবর্তী মাত্র ছয় দিনে (১৩ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি) সারাদেশে অন্তত ৩৪টি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটিয়েছে দলটির বিভিন্ন স্তরের কর্মীরা। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ, নতুন করে ব্যানার ও সাইনবোর্ড টানানো, দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং ঝটিকা জমায়েত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, ক্ষমতার এই পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ আবার মাঠে নামার চেষ্টা করছে এবং বিষয়টি নিয়ে সরকারকে ইতোমধ্যে অবগত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ ভোটের ঠিক আগেই জামিনে মুক্ত হয়েছেন। বারবার গ্রেপ্তার হওয়া সত্ত্বেও জামিন পাওয়ার পর এই অংশটিই এখন রাজপথে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ নির্বাচনে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন জোট বা প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার সুযোগ পাওয়ার কারণে দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ বিরোধিতার জায়গাটি কিছুটা শিথিল হয়েছে, যার ফায়দা তুলছে নিষিদ্ধ এই দলটি। পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভোটের পর থেকে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত সময়টিকে তারা সুযোগ হিসেবে নিতে চেয়েছিল। তবে পুলিশ সজাগ রয়েছে এবং এরই মধ্যে দিনাজপুর, নোয়াখালী ও নারায়ণগঞ্জ থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ একটি বিশেষ কৌশল হাতে নিয়েছে। সরাসরি রাজনৈতিক ব্যানারের বদলে ইফতার মাহফিল আয়োজন কিংবা গরিব ও দুস্থদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণের নাম দিয়ে তারা ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার পরিকল্পনা করেছে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় কার্যালয় খোলা হয়েছে এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ঝটিকা মিছিলের ঘটনাও ঘটেছে। গত বুধবার নারায়ণগঞ্জে জেলা ও মহানগর কার্যালয়ের সামনে ব্যানার টানানো, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় পতাকা উত্তোলন এবং চট্টগ্রামে কারাবন্দিদের পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে তারা নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে। ময়মনসিংহের তারাকান্দা এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুরেও বড় ধরনের জমায়েত ও পতাকা উত্তোলনের খবর পাওয়া গেছে।

তবে আওয়ামী লীগের এই তৎপরতা সব জায়গায় নির্বিঘ্ন হচ্ছে না। অনেক স্থানে সাধারণ জনতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা এসব প্রচেষ্টাকে রুখে দিচ্ছেন। কুড়িগ্রামে দলীয় কার্যালয়ে ব্যানার টানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা ভাঙচুর করা হয়েছে এবং বরিশালে ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ সম্বলিত ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ ছাড়া রাজবাড়ী, হবিগঞ্জ ও শরীয়তপুরেও আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কার্যালয় খোলার চেষ্টা করলে স্থানীয়ভাবে বাধার মুখে পড়েন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে আওয়ামী লীগের এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কঠোর কোনো দিকনির্দেশনা না আসায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মূলত সতর্ক পর্যবেক্ষণ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী গ্রেপ্তারের নীতি অনুসরণ করছে। তবে রমজানে যদি এই তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পায়, তবে সরকার পুনরায় হার্ডলাইনে যেতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।