রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় অবস্থিত বিশ্বের গভীরতম হ্রদ বৈকালে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। পর্যটকবাহী একটি বাস হ্রদের জমে থাকা বরফ ভেঙে গভীর পানিতে তলিয়ে গেলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে সাতজনই চীনা নাগরিক এবং অন্যজন বাসের চালক।
স্থানীয় সময় গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আঞ্চলিক শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, পর্যটকবাহী বাসটি যখন হিমায়িত হ্রদের ওপর দিয়ে পার হচ্ছিল, তখন প্রায় তিন মিটার চওড়া একটি বিশাল ফাটলে পড়ে সেটি মুহূর্তেই পানিতে তলিয়ে যায়। বাসে থাকা যাত্রীদের মধ্যে একজন চীনা পর্যটক কোনোক্রমে বের হয়ে আসতে সক্ষম হলেও বাকিরা সলিল সমাধিস্থ হন।
আঞ্চলিক গভর্নর ইগর কোবজেভ এক বার্তায় জানান, নিহতদের মধ্যে সাতজন চীনা পর্যটক এবং একজন স্থানীয় চালক রয়েছেন। দুর্ঘটনার বিষয়ে চীনের কনস্যুলেট জেনারেলকে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে। উদ্ধারকারীরা পানির নিচে বিশেষ ক্যামেরা ব্যবহার করে তল্লাশি চালিয়ে আটজনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে আঞ্চলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার বৈকাল হ্রদ সাইবেরিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। শীতকালে এই হ্রদের বিশাল জলরাশি শক্ত বরফে ঢেকে যায় এবং বরফের নিচে আটকা পড়া ঢেউয়ের কারণে এক অদ্ভুত ও মোহনীয় শব্দের সৃষ্টি হয়। এই দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক এখানে ভিড় করেন। বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনের মধ্যে ভিসামুক্ত যাতায়াত সুবিধা থাকায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনা পর্যটকদের সংখ্যা এখানে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
উল্লেখ্য, শীতকালীন মৌসুমে বরফের ওপর দিয়ে চলাচলের জন্য কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট ‘বরফ-সড়ক’ নির্ধারণ করে দেয় এবং নিয়মিত তা তদারকি করা হয়। তবে নির্ধারিত পথের বাইরে গাড়ি চালানো আইনত নিষিদ্ধ। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, বাসটি নির্ধারিত রুট অমান্য করার কারণেই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























