ঢাকা ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

রাশিয়ার গভীরে ইউক্রেনের দুঃসাহসী আঘাত: তছনছ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ১,৪০০ কিলোমিটার দূরে রাশিয়ার অভ্যন্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কারখানায় বড় ধরনের সফল হামলা চালানোর দাবি করেছে কিয়েভ। শনিবার ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর জেনারেল স্টাফ এক বিবৃতিতে জানায়, রাশিয়ার উদমুর্তিয়া অঞ্চলের ভটকিনস্ক শহরে অবস্থিত ওই সামরিক স্থাপনাটিকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়। এই কারখানাটি রাশিয়ার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

ইউক্রেনীয় সামরিক কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, আক্রান্ত ভটকিনস্ক কারখানায় রাশিয়ার স্বল্পপাল্লার ‘ইসকান্দার’ এবং আন্তঃমহাদেশীয় ‘টোপোল-এম’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হতো। রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের এত গভীরে গিয়ে হামলা চালানোর ঘটনাটি কিয়েভের ক্রমবর্ধমান দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতাকে নতুন করে সামনে এনেছে।

টেলিগ্রাম বার্তায় ইউক্রেনের সেনারা জানিয়েছে, এই অভিযানে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এবং ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ‘ফ্লামিঙ্গো’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার ফলে কারখানার ভেতরে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে এবং এর উৎপাদন কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত মাত্রা বা হতাহতের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকেও হামলার বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। উদমুর্তিয়া অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্দার ব্রেচালভ এক ভিডিও বার্তায় জানান, রাতে ওই অঞ্চলে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি এবং কিছু মানুষ আহত হওয়ার কথা বললেও তিনি সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তুর নাম উল্লেখ করেননি।

হামলার পরপরই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদমুর্তিয়ার রাজধানী ইজেভস্কসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার বিমানবন্দরগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় রাশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ‘রোসাভিয়াটসিয়া’।

বিশ্লেষকদের মতে, শীতকালীন সময়ে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে রাশিয়ার নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই কিয়েভ এই কৌশল গ্রহণ করেছে। রাশিয়ার জ্বালানি ও সামরিক শক্তিতে আঘাত হেনে তাদের সক্ষমতা কমিয়ে আনাই ইউক্রেনের মূল লক্ষ্য। ভটকিনস্ক ছাড়াও সামারা অঞ্চলের একটি গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাতেও ইউক্রেন হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

রাশিয়ার গভীর অভ্যন্তরে ইউক্রেনের এই পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা যুদ্ধের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে। একদিকে কিয়েভ যখন তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু তছনছ করছে, অন্যদিকে ক্রেমলিনও নিয়মিত হামলার মাধ্যমে ইউক্রেনের জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলছে, যা এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতকে আরও ভয়াবহ রূপ দিচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিচ্ছেন যুবদলের সাবেক নেতা ইসহাক সরকার

রাশিয়ার গভীরে ইউক্রেনের দুঃসাহসী আঘাত: তছনছ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা

আপডেট সময় : ১১:৩৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ১,৪০০ কিলোমিটার দূরে রাশিয়ার অভ্যন্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কারখানায় বড় ধরনের সফল হামলা চালানোর দাবি করেছে কিয়েভ। শনিবার ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর জেনারেল স্টাফ এক বিবৃতিতে জানায়, রাশিয়ার উদমুর্তিয়া অঞ্চলের ভটকিনস্ক শহরে অবস্থিত ওই সামরিক স্থাপনাটিকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়। এই কারখানাটি রাশিয়ার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

ইউক্রেনীয় সামরিক কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, আক্রান্ত ভটকিনস্ক কারখানায় রাশিয়ার স্বল্পপাল্লার ‘ইসকান্দার’ এবং আন্তঃমহাদেশীয় ‘টোপোল-এম’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হতো। রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের এত গভীরে গিয়ে হামলা চালানোর ঘটনাটি কিয়েভের ক্রমবর্ধমান দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতাকে নতুন করে সামনে এনেছে।

টেলিগ্রাম বার্তায় ইউক্রেনের সেনারা জানিয়েছে, এই অভিযানে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এবং ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ‘ফ্লামিঙ্গো’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার ফলে কারখানার ভেতরে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে এবং এর উৎপাদন কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত মাত্রা বা হতাহতের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকেও হামলার বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। উদমুর্তিয়া অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্দার ব্রেচালভ এক ভিডিও বার্তায় জানান, রাতে ওই অঞ্চলে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি এবং কিছু মানুষ আহত হওয়ার কথা বললেও তিনি সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তুর নাম উল্লেখ করেননি।

হামলার পরপরই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদমুর্তিয়ার রাজধানী ইজেভস্কসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার বিমানবন্দরগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় রাশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ‘রোসাভিয়াটসিয়া’।

বিশ্লেষকদের মতে, শীতকালীন সময়ে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে রাশিয়ার নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই কিয়েভ এই কৌশল গ্রহণ করেছে। রাশিয়ার জ্বালানি ও সামরিক শক্তিতে আঘাত হেনে তাদের সক্ষমতা কমিয়ে আনাই ইউক্রেনের মূল লক্ষ্য। ভটকিনস্ক ছাড়াও সামারা অঞ্চলের একটি গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাতেও ইউক্রেন হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

রাশিয়ার গভীর অভ্যন্তরে ইউক্রেনের এই পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা যুদ্ধের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে। একদিকে কিয়েভ যখন তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু তছনছ করছে, অন্যদিকে ক্রেমলিনও নিয়মিত হামলার মাধ্যমে ইউক্রেনের জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলছে, যা এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতকে আরও ভয়াবহ রূপ দিচ্ছে।