ঢাকা ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ইরানে ফের উত্তাল ক্যাম্পাস: শিক্ষার্থীদের বড় বিক্ষোভ, টার্গেট সর্বোচ্চ নেতা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৫:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

গত মাসের রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নের রেশ কাটতে না কাটতেই ইরানে আবারও বড় ধরনের সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো শিক্ষার্থীদের স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। নতুন সেমিস্টারের শুরুতেই আয়োজিত এই বিক্ষোভকে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব-পরবর্তী সময়ের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে কয়েক শ শিক্ষার্থী জাতীয় পতাকা হাতে শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করেন। তবে তাদের কণ্ঠে ছিল কঠোর রাজনৈতিক স্লোগান। বিক্ষোভকারীরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে ইঙ্গিত করে ‘স্বৈরাচারের মৃত্যু হোক’ বলে স্লোগান দেন। একই সময় কাছাকাছি এলাকায় সরকারপন্থীদের একটি পাল্টা সমাবেশকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এছাড়া শাহিদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয় ও আমিরকাবির ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতেও শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।

রাজধানীর বাইরেও এই আন্দোলনের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে শিক্ষার্থীরা ‘স্বাধীনতা’ এবং ‘অধিকার আদায়ে সোচ্চার হও’ স্লোগান দিয়ে রাজপথে নামেন। দেশের আরও বেশ কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে এবং রোববারও কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তবে এই দফার বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

উল্লেখ্য, গত মাসে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুতই সরকার পতনের এক দফার আন্দোলনে রূপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’ (হরানা) দাবি করেছে, আগের দফার বিক্ষোভে অন্তত ৬ হাজার ১৫৯ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫ হাজার ৮০৪ জন সাধারণ বিক্ষোভকারী এবং ৯২ জন শিশু রয়েছে। সংস্থাটি আরও ১৭ হাজার মৃত্যুর অভিযোগ তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে। তবে ইরান সরকারের দাবি, নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১০০ জনের মতো এবং তাদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।

অভ্যন্তরীণ এই অস্থিরতার মাঝেই ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ ও উত্তেজনা বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হলেও আগামী ১০ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে। কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব না হলে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন তিনি। এমন এক পরিস্থিতিতে প্রবাসী ইরানিদের মধ্যেও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। এক পক্ষ বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের দাবি জানালেও অন্য পক্ষ এর তীব্র বিরোধিতা করছে। সব মিলিয়ে অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইরান এখন এক কঠিন সময় পার করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিচ্ছেন যুবদলের সাবেক নেতা ইসহাক সরকার

ইরানে ফের উত্তাল ক্যাম্পাস: শিক্ষার্থীদের বড় বিক্ষোভ, টার্গেট সর্বোচ্চ নেতা

আপডেট সময় : ১০:২৫:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গত মাসের রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নের রেশ কাটতে না কাটতেই ইরানে আবারও বড় ধরনের সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো শিক্ষার্থীদের স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। নতুন সেমিস্টারের শুরুতেই আয়োজিত এই বিক্ষোভকে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব-পরবর্তী সময়ের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে কয়েক শ শিক্ষার্থী জাতীয় পতাকা হাতে শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করেন। তবে তাদের কণ্ঠে ছিল কঠোর রাজনৈতিক স্লোগান। বিক্ষোভকারীরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে ইঙ্গিত করে ‘স্বৈরাচারের মৃত্যু হোক’ বলে স্লোগান দেন। একই সময় কাছাকাছি এলাকায় সরকারপন্থীদের একটি পাল্টা সমাবেশকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এছাড়া শাহিদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয় ও আমিরকাবির ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতেও শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।

রাজধানীর বাইরেও এই আন্দোলনের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে শিক্ষার্থীরা ‘স্বাধীনতা’ এবং ‘অধিকার আদায়ে সোচ্চার হও’ স্লোগান দিয়ে রাজপথে নামেন। দেশের আরও বেশ কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে এবং রোববারও কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তবে এই দফার বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

উল্লেখ্য, গত মাসে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুতই সরকার পতনের এক দফার আন্দোলনে রূপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’ (হরানা) দাবি করেছে, আগের দফার বিক্ষোভে অন্তত ৬ হাজার ১৫৯ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫ হাজার ৮০৪ জন সাধারণ বিক্ষোভকারী এবং ৯২ জন শিশু রয়েছে। সংস্থাটি আরও ১৭ হাজার মৃত্যুর অভিযোগ তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে। তবে ইরান সরকারের দাবি, নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১০০ জনের মতো এবং তাদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।

অভ্যন্তরীণ এই অস্থিরতার মাঝেই ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ ও উত্তেজনা বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হলেও আগামী ১০ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে। কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব না হলে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন তিনি। এমন এক পরিস্থিতিতে প্রবাসী ইরানিদের মধ্যেও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। এক পক্ষ বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের দাবি জানালেও অন্য পক্ষ এর তীব্র বিরোধিতা করছে। সব মিলিয়ে অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইরান এখন এক কঠিন সময় পার করছে।