ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এক নতুন ও স্পর্শকাতর মোড় নিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, তেহরান যদি স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ বন্ধ করার নিশ্চয়তা না দেয়, তবে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি এবং তার পুত্র মোজতাবা খামেনি সহ ধর্মীয় নেতৃত্বকে অপসারণের মতো কঠোর বিকল্পও যুক্তরাষ্ট্র বিবেচনায় রাখছে।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে যে, সম্ভাব্য বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পেন্টাগন সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে একাধিক কৌশলগত প্রস্তাবনা পেশ করেছে। এই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ইরানের বর্তমান ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ পূর্বেই এই প্রস্তাবনাগুলো উপস্থাপন করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একজন উপদেষ্টা জানিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হননি এবং সকল প্রকার বিকল্পই খোলা রাখা হয়েছে। আরেকজন উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন একটি সমঝোতা চান যা রাজনৈতিকভাবে একটি বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা যেতে পারে। তবে, তিনি সতর্ক করেছেন যে ইরান যদি কোনো গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে দ্বিধা করবে না।
অন্যদিকে, এমন ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে যে, ইরান যদি স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ বন্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়, তবে সীমিত মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। যদিও এই বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।
কূটনৈতিক তৎপরতার একাধিক ধাপ ফলপ্রসূ না হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ এবং ইসরাইলের মতো মিত্রদের মতে, সমঝোতার চেয়ে সংঘাতের সম্ভাবনাই বেশি। এই পরিস্থিতিতে, মধ্যপ্রাচ্যে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর থেকে ওয়াশিংটন তাদের বৃহত্তম সামরিক সমাবেশ ঘটিয়েছে। তবে, বাহিনী প্রস্তুত থাকলেও এখনো সামরিক পদক্ষেপের অনুমোদন দেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন যে, আলোচনায় উভয় পক্ষ কিছু মৌলিক নীতিমালার ব্যাপারে একমত হয়েছে এবং তেহরান শীঘ্রই একটি লিখিত প্রস্তাব পেশ করবে। তাঁর দাবি, জেনেভা বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পুরো পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার শর্ত সরাসরি উত্থাপন করেনি।
আরাগচি আরও বলেন যে, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম কীভাবে অব্যাহত রাখা যায়, সেই কাঠামো নিয়েই মূলত আলোচনা চলছে। এই আলোচনার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের পরমাণু তদারকি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন। প্রস্তাবের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার এবং হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৪৫০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণের মতো কারিগরি পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, সমঝোতার পথে এখনো উল্লেখযোগ্য দূরত্ব রয়ে গেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের প্রস্তাবনা অবশ্যই সুস্পষ্ট ও বিশদ হতে হবে, যাতে এটি নিশ্চিত করা যায় যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি নয়। লিখিত প্রস্তাব হাতে পাওয়ার পরই ওয়াশিংটন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানানো হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























