ঢাকা ০৬:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪ দশকের ভয়ংকরতম তুষারধস: ৯ জনের মৃত্যু, শোকের ছায়া

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালায় এক ভয়াবহ তুষারধসে ৯ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানি হয়েছে। গত ৪৫ বছরের মধ্যে দেশটিতে এটিকে সবচেয়ে মারাত্মক তুষারধসের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ছয়জন নারী তুষারক্রীড়াবিদ এবং তিনজন পেশাদার গাইড, যারা একটি দুর্গম ব্যাককান্ট্রি স্কি অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।

পাহাড়ের প্রতি গভীর টান থেকেই নিহতরা অভিজ্ঞ গাইডদের তত্ত্বাবধানে তিন দিনের এই দুঃসাহসিক অভিযানে গিয়েছিলেন। পেশাগত জীবনে সফল হওয়ার পাশাপাশি তারা ছিলেন পরিবারনির্ভর মানুষ। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সবাই ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ স্কিয়ার এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ নিয়েই তারা এই অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।

দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোদের মধ্যে দুই বোন—লিজ ক্ল্যাবাঘ ও ক্যারোলিন সেকার—রয়েছেন। এছাড়া, তাদের সঙ্গে নিহত অন্য চার বান্ধবী হলেন ক্যারি অ্যাটকিন, ড্যানিয়েল কিটলি, কেট মোর্স ও কেট ভিট। তারা আইডাহো ও বে এলাকা অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে তুষারক্রীড়ায় অংশ নিতেন।

গত মঙ্গলবার সকালে দলটি যখন ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই ফুটবল মাঠের সমান বিস্তৃত একটি বিশাল তুষারস্তর আচমকা তাদের ওপর ভেঙে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বরফের বিশাল স্তূপের নিচে চাপা পড়েন তারা। প্রকৃতির আকস্মিক রুদ্ররূপ তাদের সব প্রস্তুতি ও দক্ষতাকে ব্যর্থ করে দেয়।

বিপদসংকেত পাওয়ার পর উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত রওনা দিলেও প্রবল ঝোড়ো হাওয়া ও প্রায় শূন্য দৃশ্যমানতার কারণে উদ্ধারকাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়। কয়েক ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি নয়জনকে আর বাঁচানো যায়নি। বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা জানান, তুষারধসের পর তারা কয়েক ঘণ্টা একটি প্লাস্টিকের চাদরের নিচে আশ্রয় নিয়ে উদ্ধারকারীদের জন্য অপেক্ষা করেন।

এ ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে, বিশেষ করে কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নেভাদা কাউন্টি শেরিফ দপ্তর জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থল এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় সব মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি; একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মনোবিজ্ঞানী সারা বয়েলেনের মতে, পাহাড়প্রেমীদের জন্য এটি গভীর মানসিক আঘাত। যে স্থান তাদের কাছে ছিল প্রশান্তির প্রতীক, সেখানেই প্রিয়জন হারানোর বেদনা দীর্ঘদিন বহন করতে হবে। পাহাড়ের প্রতি ভালোবাসা ও ঝুঁকির মাঝামাঝি অবস্থানেই সিয়েরা নেভাদার এই অভিযানের করুণ সমাপ্তি ঘটল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিচ্ছেন যুবদলের সাবেক নেতা ইসহাক সরকার

ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪ দশকের ভয়ংকরতম তুষারধস: ৯ জনের মৃত্যু, শোকের ছায়া

আপডেট সময় : ০৯:০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালায় এক ভয়াবহ তুষারধসে ৯ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানি হয়েছে। গত ৪৫ বছরের মধ্যে দেশটিতে এটিকে সবচেয়ে মারাত্মক তুষারধসের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ছয়জন নারী তুষারক্রীড়াবিদ এবং তিনজন পেশাদার গাইড, যারা একটি দুর্গম ব্যাককান্ট্রি স্কি অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।

পাহাড়ের প্রতি গভীর টান থেকেই নিহতরা অভিজ্ঞ গাইডদের তত্ত্বাবধানে তিন দিনের এই দুঃসাহসিক অভিযানে গিয়েছিলেন। পেশাগত জীবনে সফল হওয়ার পাশাপাশি তারা ছিলেন পরিবারনির্ভর মানুষ। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সবাই ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ স্কিয়ার এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ নিয়েই তারা এই অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।

দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোদের মধ্যে দুই বোন—লিজ ক্ল্যাবাঘ ও ক্যারোলিন সেকার—রয়েছেন। এছাড়া, তাদের সঙ্গে নিহত অন্য চার বান্ধবী হলেন ক্যারি অ্যাটকিন, ড্যানিয়েল কিটলি, কেট মোর্স ও কেট ভিট। তারা আইডাহো ও বে এলাকা অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে তুষারক্রীড়ায় অংশ নিতেন।

গত মঙ্গলবার সকালে দলটি যখন ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই ফুটবল মাঠের সমান বিস্তৃত একটি বিশাল তুষারস্তর আচমকা তাদের ওপর ভেঙে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বরফের বিশাল স্তূপের নিচে চাপা পড়েন তারা। প্রকৃতির আকস্মিক রুদ্ররূপ তাদের সব প্রস্তুতি ও দক্ষতাকে ব্যর্থ করে দেয়।

বিপদসংকেত পাওয়ার পর উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত রওনা দিলেও প্রবল ঝোড়ো হাওয়া ও প্রায় শূন্য দৃশ্যমানতার কারণে উদ্ধারকাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়। কয়েক ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি নয়জনকে আর বাঁচানো যায়নি। বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা জানান, তুষারধসের পর তারা কয়েক ঘণ্টা একটি প্লাস্টিকের চাদরের নিচে আশ্রয় নিয়ে উদ্ধারকারীদের জন্য অপেক্ষা করেন।

এ ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে, বিশেষ করে কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নেভাদা কাউন্টি শেরিফ দপ্তর জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থল এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় সব মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি; একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মনোবিজ্ঞানী সারা বয়েলেনের মতে, পাহাড়প্রেমীদের জন্য এটি গভীর মানসিক আঘাত। যে স্থান তাদের কাছে ছিল প্রশান্তির প্রতীক, সেখানেই প্রিয়জন হারানোর বেদনা দীর্ঘদিন বহন করতে হবে। পাহাড়ের প্রতি ভালোবাসা ও ঝুঁকির মাঝামাঝি অবস্থানেই সিয়েরা নেভাদার এই অভিযানের করুণ সমাপ্তি ঘটল।