ঢাকা ০৬:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলা: উগ্রবাদী দমনে কঠোর বার্তা, বাড়ছে উত্তেজনা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৬:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

সম্প্রতি পাকিস্তানে প্রাণঘাতী হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী উগ্রবাদী আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। রোববার ভোরে চালানো এই হামলায় আফগান ভূখণ্ড ব্যবহারকারী জঙ্গিদের টার্গেট করা হয়েছে বলে ইসলামাবাদ দাবি করেছে। এই সামরিক পদক্ষেপের ফলে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ জানিয়েছেন যে, পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি) ও তাদের সহযোগীদের সাতটি ক্যাম্প এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) একটি সহযোগী গোষ্ঠীর আস্তানায় “গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট অভিযান” চালানো হয়েছে। যদিও ইসলামাবাদ সুনির্দিষ্টভাবে হামলার স্থান জানায়নি, তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, হামলাগুলো আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে কাবুলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো উত্তর-পশ্চিম খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাজোর জেলায় একটি নিরাপত্তা চৌকিতে আত্মঘাতী বোমা ও বন্দুক হামলায় ১১ সৈন্য ও এক শিশু নিহত হওয়ার কয়েকদিন পর। ওই হামলার জন্য একজন আফগান নাগরিককে দায়ী করা হয়েছিল। এছাড়া, শনিবার বান্নু জেলায় এক আত্মঘাতী হামলায় একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুই সৈন্য নিহত হওয়ার পরই পাকিস্তান সেনাবাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, তারা আর কোনো “সংযম প্রদর্শন করবে না” এবং অপরাধীদের অবস্থান যেখানেই হোক না কেন, অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তথ্যমন্ত্রী তারার দাবি করেন, চলতি মাসে ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে ৩১ জন মুসল্লি নিহতের ঘটনাসহ সাম্প্রতিক হামলাগুলোর পেছনে “আফগানিস্তান-ভিত্তিক নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রকদের” হাত থাকার অকাট্য প্রমাণ পাকিস্তানের কাছে আছে। তিনি অভিযোগ করেন, আফগান ভূমি ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা বন্ধে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তালিবান সরকার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। দোহা চুক্তির প্রতিশ্রুতি মেনে চলার জন্য আফগান কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাকিস্তানে টিটিপি ও বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়েছে। ইসলামাবাদ বারবার অভিযোগ করে আসছে যে টিটিপি আফগান মাটি ব্যবহার করছে, যদিও কাবুল ও টিটিপি উভয় পক্ষই এই অভিযোগ অস্বীকার করে। গত অক্টোবর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। কাতার ও ইস্তাম্বুলে মধ্যস্থতার চেষ্টা চললেও সীমান্ত সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক এখনও তিক্ত। পাকিস্তান সর্বদা অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকলেও, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে তারার উল্লেখ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিচ্ছেন যুবদলের সাবেক নেতা ইসহাক সরকার

আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলা: উগ্রবাদী দমনে কঠোর বার্তা, বাড়ছে উত্তেজনা

আপডেট সময় : ০৬:৩৬:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সম্প্রতি পাকিস্তানে প্রাণঘাতী হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী উগ্রবাদী আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। রোববার ভোরে চালানো এই হামলায় আফগান ভূখণ্ড ব্যবহারকারী জঙ্গিদের টার্গেট করা হয়েছে বলে ইসলামাবাদ দাবি করেছে। এই সামরিক পদক্ষেপের ফলে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ জানিয়েছেন যে, পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি) ও তাদের সহযোগীদের সাতটি ক্যাম্প এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) একটি সহযোগী গোষ্ঠীর আস্তানায় “গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট অভিযান” চালানো হয়েছে। যদিও ইসলামাবাদ সুনির্দিষ্টভাবে হামলার স্থান জানায়নি, তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, হামলাগুলো আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে কাবুলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো উত্তর-পশ্চিম খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাজোর জেলায় একটি নিরাপত্তা চৌকিতে আত্মঘাতী বোমা ও বন্দুক হামলায় ১১ সৈন্য ও এক শিশু নিহত হওয়ার কয়েকদিন পর। ওই হামলার জন্য একজন আফগান নাগরিককে দায়ী করা হয়েছিল। এছাড়া, শনিবার বান্নু জেলায় এক আত্মঘাতী হামলায় একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুই সৈন্য নিহত হওয়ার পরই পাকিস্তান সেনাবাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, তারা আর কোনো “সংযম প্রদর্শন করবে না” এবং অপরাধীদের অবস্থান যেখানেই হোক না কেন, অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তথ্যমন্ত্রী তারার দাবি করেন, চলতি মাসে ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে ৩১ জন মুসল্লি নিহতের ঘটনাসহ সাম্প্রতিক হামলাগুলোর পেছনে “আফগানিস্তান-ভিত্তিক নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রকদের” হাত থাকার অকাট্য প্রমাণ পাকিস্তানের কাছে আছে। তিনি অভিযোগ করেন, আফগান ভূমি ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা বন্ধে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তালিবান সরকার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। দোহা চুক্তির প্রতিশ্রুতি মেনে চলার জন্য আফগান কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাকিস্তানে টিটিপি ও বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়েছে। ইসলামাবাদ বারবার অভিযোগ করে আসছে যে টিটিপি আফগান মাটি ব্যবহার করছে, যদিও কাবুল ও টিটিপি উভয় পক্ষই এই অভিযোগ অস্বীকার করে। গত অক্টোবর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। কাতার ও ইস্তাম্বুলে মধ্যস্থতার চেষ্টা চললেও সীমান্ত সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক এখনও তিক্ত। পাকিস্তান সর্বদা অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকলেও, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে তারার উল্লেখ করেন।