কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূল থেকে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে জড়ো হওয়া নারী ও শিশুসহ ৫৫ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় মানব পাচারকারী চক্রের ৫ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। উন্নত জীবন ও উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে সাগরপথে বিদেশে পাঠানোর এই অপচেষ্টা নস্যাৎ করে দেয় কোস্ট গার্ডের একটি বিশেষ দল।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক শুক্রবার দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড জানতে পারে যে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি টেকনাফের বাহারছড়া সমুদ্র এলাকায় অবস্থান করছে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট বাহারছড়া, শাহপরী ও টেকনাফ স্টেশন যৌথভাবে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে সমুদ্র এলাকায় একটি সন্দেহজনক নৌকাকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। তবে নৌকাটি সংকেত অমান্য করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। পরে অভিযানিক দল দ্রুত ধাওয়া করে টেকনাফের বাহারছড়ার কচ্ছপিয়া সংলগ্ন সমুদ্র এলাকা থেকে নৌকাটি আটক করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তীতে নৌকাটিতে তল্লাশি চালিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচারের জন্য আটকে রাখা ৫৫ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। একই সঙ্গে মানব পাচারের অভিযোগে ৫ জন পাচারকারীকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
কোস্ট গার্ডের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের টার্গেট করে। তারা বিদেশে উন্নত জীবনযাপন, উচ্চ বেতনের চাকরি এবং অল্প খরচে বিদেশ পাঠানোর লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে তাদের মালয়েশিয়ায় পাচারের পরিকল্পনা করছিল।
উদ্ধারকৃত ব্যক্তি ও আটককৃত পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক। তিনি আরও বলেন, মানব পাচার রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে এবং এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকবে।
রিপোর্টারের নাম 























