ঢাকা ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

তজুমদ্দিনের ১২৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার: উপেক্ষিত ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৭:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

ভাষার জন্য আত্মত্যাগের মহিমাময় একুশে ফেব্রুয়ারির ৭৪ বছর পেরিয়ে গেলেও ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার ১২৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত হয়নি কোনো শহীদ মিনার। এতে করে এই অঞ্চলের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্ম ভাষা আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস জানা এবং শহীদদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি এলেই এসব প্রতিষ্ঠানে কলা গাছ ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে দায়সারাভাবে ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হয়, যা এই ঐতিহাসিক দিবসের গুরুত্বকে অনেকটাই ম্লান করে দিচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, তজুমদ্দিন উপজেলায় মোট ১৪৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১১০টি এবং সরকারি, এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে আরও ১৯টি প্রতিষ্ঠানসহ সর্বমোট ১২৯টি প্রতিষ্ঠানে কোনো শহীদ মিনার নেই। ফলে ভাষা আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাস ও আত্মত্যাগের মর্মার্থ শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা কেবল পাঠ্যবইয়ের সীমিত পরিসরেই ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে জানতে পারে। শহীদ মিনার না থাকায় শিক্ষার্থীরা ভাষা আন্দোলনের গভীরতা এবং শহীদদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান ও সম্মান প্রদর্শনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থী ভাষা আন্দোলন ও শহীদ দিবস সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান থেকেও বঞ্চিত থাকছে বলে জানা যায়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. জুয়েল এই চিত্রকে উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, “অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনার না থাকাটা দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভাষা শহীদ ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে শহীদ মিনারের ভূমিকা অপরিসীম।” তিনি সরকারের প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণে প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক অনুদানের আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনায়েতুর রহমান শহীদ মিনারের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে বলেন, “শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা জরুরি। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো এটি নির্মিত হয়নি, এ বছর পিইডিপি-৫ প্রকল্পের আওতায় সেগুলোতে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।” তবে, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য সরকারি কোনো নির্দিষ্ট তহবিল নেই। তিনি আরও বলেন, “ভাষা শহীদদের প্রতি যথার্থ মর্যাদা দিতে হলে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তজুমদ্দিনের ১২৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার: উপেক্ষিত ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

আপডেট সময় : ০৭:১৭:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভাষার জন্য আত্মত্যাগের মহিমাময় একুশে ফেব্রুয়ারির ৭৪ বছর পেরিয়ে গেলেও ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার ১২৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত হয়নি কোনো শহীদ মিনার। এতে করে এই অঞ্চলের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্ম ভাষা আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস জানা এবং শহীদদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি এলেই এসব প্রতিষ্ঠানে কলা গাছ ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে দায়সারাভাবে ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হয়, যা এই ঐতিহাসিক দিবসের গুরুত্বকে অনেকটাই ম্লান করে দিচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, তজুমদ্দিন উপজেলায় মোট ১৪৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১১০টি এবং সরকারি, এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে আরও ১৯টি প্রতিষ্ঠানসহ সর্বমোট ১২৯টি প্রতিষ্ঠানে কোনো শহীদ মিনার নেই। ফলে ভাষা আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাস ও আত্মত্যাগের মর্মার্থ শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা কেবল পাঠ্যবইয়ের সীমিত পরিসরেই ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে জানতে পারে। শহীদ মিনার না থাকায় শিক্ষার্থীরা ভাষা আন্দোলনের গভীরতা এবং শহীদদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান ও সম্মান প্রদর্শনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থী ভাষা আন্দোলন ও শহীদ দিবস সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান থেকেও বঞ্চিত থাকছে বলে জানা যায়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. জুয়েল এই চিত্রকে উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, “অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনার না থাকাটা দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভাষা শহীদ ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে শহীদ মিনারের ভূমিকা অপরিসীম।” তিনি সরকারের প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণে প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক অনুদানের আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনায়েতুর রহমান শহীদ মিনারের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে বলেন, “শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা জরুরি। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো এটি নির্মিত হয়নি, এ বছর পিইডিপি-৫ প্রকল্পের আওতায় সেগুলোতে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।” তবে, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য সরকারি কোনো নির্দিষ্ট তহবিল নেই। তিনি আরও বলেন, “ভাষা শহীদদের প্রতি যথার্থ মর্যাদা দিতে হলে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।”