মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বৃহস্পতিবার তেলের মূল্যে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৭০ দশমিক ৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ১ দশমিক ১৬ ডলার বা ১ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৬৬ দশমিক ৩৫ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে। এর আগে দিনের শুরুতে ডব্লিউটিআই তেলের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৬৫ দশমিক ৪৭ ডলারে লেনদেন হয়েছিল।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে সরবরাহ হওয়া মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশই পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ফলে এই জলপথে সামান্যতম অস্থিরতা বা জাহাজ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা থাকে। সাম্প্রতিক উত্তেজনায় সেই আশঙ্কাই এখন বাজারে প্রতিফলিত হচ্ছে।
তবে নিসান সিকিউরিটিজের প্রধান কৌশলবিদ হিরোয়ুকি কিকুকাওয়ার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি থমথমে হলেও পূর্ণাঙ্গ কোনো সশস্ত্র যুদ্ধের সম্ভাবনা এখনো ক্ষীণ। তিনি বিশ্লেষণ করে জানান, তৎকালীন মার্কিন প্রশাসন তেলের দাম খুব বেশি বৃদ্ধি পাক—এমনটি চায় না। ফলে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা হবে অত্যন্ত সীমিত এবং স্বল্পমেয়াদি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে ইরান কৌশলগত এই জলপথটি কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দিয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। এর মধ্যেই নতুন করে যৌথ সামরিক মহড়া আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান, যা এই অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে। মূলত এই ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সরাসরি প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে।
রিপোর্টারের নাম 























