ঢাকা ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

মুক্ত হলেন ব্রিটিশ রাজপুত্র অ্যান্ড্রু, তবে বহাল থাকছে তদন্ত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫৩:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্পর্শকাতর তথ্য পাচারের অভিযোগে আটকের পর মুক্তি পেয়েছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু। তবে মুক্তি পেলেও তার বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগগুলোর তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ভাই অ্যান্ড্রুর এই অনাকাঙ্ক্ষিত আটকের ঘটনায় রাজপ্রাসাদ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। রাজা চার্লস স্পষ্ট করে বলেছেন, “আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।” রাজপরিবারের পক্ষ থেকে তদন্ত কাজে পুলিশকে পূর্ণ ও সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সম্পর্ক এবং অত্যন্ত গোপনীয় সরকারি তথ্য লেনদেনের বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন সরকারের প্রকাশ করা এপস্টিন সংক্রান্ত নথিতে অ্যান্ড্রুর সঙ্গে তার যোগাযোগের চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য সামনে আসার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রিন্স অ্যান্ড্রু তার পদের অপব্যবহার করেছিলেন। প্রকাশিত নথিপত্র অনুযায়ী, আফগানিস্তানে সোনা ও ইউরেনিয়াম খনিতে বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য এবং ২০১০ সালে ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর ও চীনে সরকারি সফরের বিশেষ প্রতিবেদন তিনি এপস্টিনের কাছে পাঠিয়েছিলেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বাণিজ্য দূতদের জন্য এ ধরনের বাণিজ্যিক বা রাজনৈতিক তথ্য অত্যন্ত গোপনীয় রাখা বাধ্যতামূলক।

এছাড়া, ২০১০ সালে এপস্টিন কর্তৃক জনৈক ব্রিটিশ নাগরিক নন এমন এক তরুণীকে অ্যান্ড্রুর কাছে পাঠানোর একটি পুরনো অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যদিও প্রিন্স অ্যান্ড্রু শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। গত জানুয়ারিতে এপস্টিন সংক্রান্ত লাখ লাখ গোপন ফাইল জনসমক্ষে আসার পরও তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি। ব্রিটিশ রাজপরিবারের এই সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে এখন বিশ্বজুড়ে নজর রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিচ্ছেন যুবদলের সাবেক নেতা ইসহাক সরকার

মুক্ত হলেন ব্রিটিশ রাজপুত্র অ্যান্ড্রু, তবে বহাল থাকছে তদন্ত

আপডেট সময় : ০২:৫৩:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্পর্শকাতর তথ্য পাচারের অভিযোগে আটকের পর মুক্তি পেয়েছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু। তবে মুক্তি পেলেও তার বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগগুলোর তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ভাই অ্যান্ড্রুর এই অনাকাঙ্ক্ষিত আটকের ঘটনায় রাজপ্রাসাদ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। রাজা চার্লস স্পষ্ট করে বলেছেন, “আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।” রাজপরিবারের পক্ষ থেকে তদন্ত কাজে পুলিশকে পূর্ণ ও সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সম্পর্ক এবং অত্যন্ত গোপনীয় সরকারি তথ্য লেনদেনের বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন সরকারের প্রকাশ করা এপস্টিন সংক্রান্ত নথিতে অ্যান্ড্রুর সঙ্গে তার যোগাযোগের চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য সামনে আসার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রিন্স অ্যান্ড্রু তার পদের অপব্যবহার করেছিলেন। প্রকাশিত নথিপত্র অনুযায়ী, আফগানিস্তানে সোনা ও ইউরেনিয়াম খনিতে বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য এবং ২০১০ সালে ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর ও চীনে সরকারি সফরের বিশেষ প্রতিবেদন তিনি এপস্টিনের কাছে পাঠিয়েছিলেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বাণিজ্য দূতদের জন্য এ ধরনের বাণিজ্যিক বা রাজনৈতিক তথ্য অত্যন্ত গোপনীয় রাখা বাধ্যতামূলক।

এছাড়া, ২০১০ সালে এপস্টিন কর্তৃক জনৈক ব্রিটিশ নাগরিক নন এমন এক তরুণীকে অ্যান্ড্রুর কাছে পাঠানোর একটি পুরনো অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যদিও প্রিন্স অ্যান্ড্রু শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। গত জানুয়ারিতে এপস্টিন সংক্রান্ত লাখ লাখ গোপন ফাইল জনসমক্ষে আসার পরও তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি। ব্রিটিশ রাজপরিবারের এই সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে এখন বিশ্বজুড়ে নজর রয়েছে।