ঢাকা ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে যাবজ্জীবন দণ্ড: অবশেষে ক্ষমা চাইলেন দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৭:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

বিতর্কিত সামরিক আইন জারি করে দক্ষিণ কোরিয়ায় চরম অস্থিরতা ও জনজীবনে ভোগান্তি সৃষ্টির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োল। রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আদালত কর্তৃক যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার মাত্র একদিন পর শুক্রবার তিনি এই আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাইলেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গত বৃহস্পতিবার সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে ইউন সুক ইয়োলকে দোষী সাব্যস্ত করে। রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পার্লামেন্ট অচল করার উদ্দেশ্যে ইউন যে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তা সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল।

শুক্রবার আইনজীবীর মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সাবেক এই প্রেসিডেন্ট সামরিক শাসন জারির চেষ্টার ফলে জনমনে তৈরি হওয়া ক্ষোভ ও হতাশার দায় স্বীকার করে নেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, সে সময়কার পদক্ষেপটি তিনি ‘সম্পূর্ণভাবে জাতির স্বার্থে’ নিয়েছিলেন। বিবৃতিতে ইউন বলেন, “দেশকে রক্ষার দৃঢ় সংকল্প থাকা সত্ত্বেও আমার অদূরদর্শিতার কারণে সাধারণ মানুষের যে অবর্ণনীয় ভোগান্তি ও হতাশা হয়েছে, সেজন্য আমি অন্তর থেকে ক্ষমা চাচ্ছি।”

আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়কে ‘মেনে নেওয়া কঠিন’ বলে মন্তব্য করলেও, ইউন সুক ইয়োল উচ্চ আদালতে আপিল করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো বার্তা দেননি। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রচলিত আইন অনুযায়ী, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কোনো আসামি সাধারণত ২০ বছর সাজা ভোগের পর প্যারোলে মুক্তির আবেদন করতে পারেন। ফলে ৬৫ বছর বয়সী এই নেতার কারামুক্তি দীর্ঘ সময়ের জন্য অনিশ্চিত হয়ে পড়ল।

মামলার পর্যবেক্ষণে বিচারক জি গুই-ইয়ন বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমানোর হীন উদ্দেশ্যেই ইউন পার্লামেন্ট ভবনে সেনা পাঠিয়েছিলেন। তিনি দীর্ঘ সময়ের জন্য দেশের আইনসভাকে অচল করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিলেন, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর মধ্যরাতে টেলিভিশনে এক আকস্মিক ভাষণে সামরিক আইন (মার্শাল ল) জারির ঘোষণা দিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন ইউন সুক ইয়োল। সে সময় তিনি উত্তর কোরিয়ার প্রভাব ও তথাকথিত ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’র হুমকির অজুহাত দেখিয়ে বেসামরিক সরকার স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তার এই পদক্ষেপ সফল হয়নি। ঘোষণার মাত্র ছয় ঘণ্টার মাথায় দেশটির সাহসী আইনপ্রণেতারা পার্লামেন্টে জরুরি ভোটাভুটির মাধ্যমে সেই মার্শাল ল বাতিল করে দেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক ধারা পুনরুদ্ধার করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিচ্ছেন যুবদলের সাবেক নেতা ইসহাক সরকার

রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে যাবজ্জীবন দণ্ড: অবশেষে ক্ষমা চাইলেন দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োল

আপডেট সময় : ০২:৪৭:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিতর্কিত সামরিক আইন জারি করে দক্ষিণ কোরিয়ায় চরম অস্থিরতা ও জনজীবনে ভোগান্তি সৃষ্টির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োল। রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আদালত কর্তৃক যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার মাত্র একদিন পর শুক্রবার তিনি এই আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাইলেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গত বৃহস্পতিবার সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে ইউন সুক ইয়োলকে দোষী সাব্যস্ত করে। রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পার্লামেন্ট অচল করার উদ্দেশ্যে ইউন যে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তা সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল।

শুক্রবার আইনজীবীর মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সাবেক এই প্রেসিডেন্ট সামরিক শাসন জারির চেষ্টার ফলে জনমনে তৈরি হওয়া ক্ষোভ ও হতাশার দায় স্বীকার করে নেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, সে সময়কার পদক্ষেপটি তিনি ‘সম্পূর্ণভাবে জাতির স্বার্থে’ নিয়েছিলেন। বিবৃতিতে ইউন বলেন, “দেশকে রক্ষার দৃঢ় সংকল্প থাকা সত্ত্বেও আমার অদূরদর্শিতার কারণে সাধারণ মানুষের যে অবর্ণনীয় ভোগান্তি ও হতাশা হয়েছে, সেজন্য আমি অন্তর থেকে ক্ষমা চাচ্ছি।”

আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়কে ‘মেনে নেওয়া কঠিন’ বলে মন্তব্য করলেও, ইউন সুক ইয়োল উচ্চ আদালতে আপিল করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো বার্তা দেননি। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রচলিত আইন অনুযায়ী, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কোনো আসামি সাধারণত ২০ বছর সাজা ভোগের পর প্যারোলে মুক্তির আবেদন করতে পারেন। ফলে ৬৫ বছর বয়সী এই নেতার কারামুক্তি দীর্ঘ সময়ের জন্য অনিশ্চিত হয়ে পড়ল।

মামলার পর্যবেক্ষণে বিচারক জি গুই-ইয়ন বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমানোর হীন উদ্দেশ্যেই ইউন পার্লামেন্ট ভবনে সেনা পাঠিয়েছিলেন। তিনি দীর্ঘ সময়ের জন্য দেশের আইনসভাকে অচল করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিলেন, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর মধ্যরাতে টেলিভিশনে এক আকস্মিক ভাষণে সামরিক আইন (মার্শাল ল) জারির ঘোষণা দিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন ইউন সুক ইয়োল। সে সময় তিনি উত্তর কোরিয়ার প্রভাব ও তথাকথিত ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’র হুমকির অজুহাত দেখিয়ে বেসামরিক সরকার স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তার এই পদক্ষেপ সফল হয়নি। ঘোষণার মাত্র ছয় ঘণ্টার মাথায় দেশটির সাহসী আইনপ্রণেতারা পার্লামেন্টে জরুরি ভোটাভুটির মাধ্যমে সেই মার্শাল ল বাতিল করে দেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক ধারা পুনরুদ্ধার করেন।