ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্টে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘সাধারণ ক্ষমা আইন’। এর ফলে দেশটিতে সরকারবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায়ে কারাবন্দি কয়েকশ নেতার মুক্তির এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে বিলটি অনুমোদনের পর এতে চূড়ান্ত স্বাক্ষর করেন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।
তবে এই বিশেষ ক্ষমার আওতায় সবাই আসছেন না। আইন অনুযায়ী, যারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক তৎপরতায় উসকানি দিয়েছেন কিংবা সশস্ত্র বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করেছেন, তারা এই সুযোগের বাইরে থাকবেন। রাজধানী কারাকাসের মিরাফ্লোরেস প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে বিলটিতে সই করার পর এক আবেগঘন বক্তব্যে ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, “মানুষকে যেমন ক্ষমা চাইতে জানতে হয়, তেমনি ক্ষমা গ্রহণ করার মানসিকতাও থাকতে হয়।”
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের এক সামরিক অভিযানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব গ্রহণ করেন রদ্রিগেজ। ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক চাপ এবং বর্তমান সরকারের বিশেষ তৎপরতায় এই আইনটি আলোর মুখ দেখল। ১৯৯৯ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া বড় সব রাজনৈতিক ঘটনার ক্ষেত্রে এই আইনটি কার্যকর হবে। এর ফলে সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান চেষ্টা, ২০০২ সালের তেল ধর্মঘট এবং ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় অভিযুক্তরা মুক্তি পেতে পারেন। সরকারের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পর কারাবন্দিদের স্বজনদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে এবং তারা প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার প্রহর গুনছেন।
রিপোর্টারের নাম 























