ঢাকা ০৪:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

উত্তর কোরিয়ায় কিম জং উনের নেতৃত্বে ওয়ার্কার্স পার্টির ঐতিহাসিক কংগ্রেস শুরু, পারমাণবিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৮:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ং-এ দেশটির ক্ষমতাসীন দল ওয়ার্কার্স পার্টির এক গুরুত্বপূর্ণ কংগ্রেস শুরু হয়েছে। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনটি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এবারের কংগ্রেসকে ঘিরে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির পরবর্তী গতিপথ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র জল্পনা-কল্পনা চলছে।

উদ্বোধনী ভাষণে পার্টির শীর্ষ নেতা কিম জং উন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা, জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি দলের অভ্যন্তরে বিদ্যমান ‘পরাজয়বাদ’ এবং নেতৃত্বের অদক্ষতাকে অগ্রগতির পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, কিমের এই মন্তব্য দলের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণের ইঙ্গিত বহন করছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের কংগ্রেসের পর দেশটি বেশ কিছু প্রতিকূলতার সম্মুখীন হলেও, বর্তমানে একটি নতুন আশা ও আত্মবিশ্বাসের পর্যায় অতিক্রম করছে। এবারের সম্মেলনে আবাসন নির্মাণ, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সামরিক কৌশল নির্ধারণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে। ঐতিহ্যগতভাবে, এই কংগ্রেসের সমাপ্তি প্রায়শই একটি জমকালো সামরিক কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে হয়, যেখানে দেশটির অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র প্রদর্শিত হয়।

পারমাণবিক সক্ষমতা জোরদারের রূপরেখা:
কিম জং উন পূর্বেই ঘোষণা করেছেন যে, এই কংগ্রেসে দেশের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারকে আরও শক্তিশালী করার একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা উপস্থাপন করা হবে। সর্বশেষ পারমাণবিক পরীক্ষার পর থেকে দেশটির বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য বহনযোগ্য ক্ষুদ্র আকারের পারমাণবিক বোমা তৈরির কাজে নিয়োজিত রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদী পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি বর্তমানে এক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন। এসব নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির অর্থায়ন বন্ধ করা। তবে, বিশ্লেষকদের মতে, কিম তার বক্তব্যে পারমাণবিক সক্ষমতার ধারাবাহিক অগ্রগতি এবং চীন ও রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে পারেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিচ্ছেন যুবদলের সাবেক নেতা ইসহাক সরকার

উত্তর কোরিয়ায় কিম জং উনের নেতৃত্বে ওয়ার্কার্স পার্টির ঐতিহাসিক কংগ্রেস শুরু, পারমাণবিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

আপডেট সময় : ০৯:৫৮:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ং-এ দেশটির ক্ষমতাসীন দল ওয়ার্কার্স পার্টির এক গুরুত্বপূর্ণ কংগ্রেস শুরু হয়েছে। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনটি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এবারের কংগ্রেসকে ঘিরে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির পরবর্তী গতিপথ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র জল্পনা-কল্পনা চলছে।

উদ্বোধনী ভাষণে পার্টির শীর্ষ নেতা কিম জং উন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা, জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি দলের অভ্যন্তরে বিদ্যমান ‘পরাজয়বাদ’ এবং নেতৃত্বের অদক্ষতাকে অগ্রগতির পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, কিমের এই মন্তব্য দলের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণের ইঙ্গিত বহন করছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের কংগ্রেসের পর দেশটি বেশ কিছু প্রতিকূলতার সম্মুখীন হলেও, বর্তমানে একটি নতুন আশা ও আত্মবিশ্বাসের পর্যায় অতিক্রম করছে। এবারের সম্মেলনে আবাসন নির্মাণ, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সামরিক কৌশল নির্ধারণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে। ঐতিহ্যগতভাবে, এই কংগ্রেসের সমাপ্তি প্রায়শই একটি জমকালো সামরিক কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে হয়, যেখানে দেশটির অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র প্রদর্শিত হয়।

পারমাণবিক সক্ষমতা জোরদারের রূপরেখা:
কিম জং উন পূর্বেই ঘোষণা করেছেন যে, এই কংগ্রেসে দেশের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারকে আরও শক্তিশালী করার একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা উপস্থাপন করা হবে। সর্বশেষ পারমাণবিক পরীক্ষার পর থেকে দেশটির বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য বহনযোগ্য ক্ষুদ্র আকারের পারমাণবিক বোমা তৈরির কাজে নিয়োজিত রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদী পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি বর্তমানে এক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন। এসব নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির অর্থায়ন বন্ধ করা। তবে, বিশ্লেষকদের মতে, কিম তার বক্তব্যে পারমাণবিক সক্ষমতার ধারাবাহিক অগ্রগতি এবং চীন ও রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে পারেন।