ঢাকা ১১:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

নীলফামারীতে এখনো সরেনি নির্বাচনি প্রচারসামগ্রী: প্রশ্নবিদ্ধ আচরণবিধি ও পরিবেশ দূষণ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৮:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও নীলফামারী জেলার চারটি সংসদীয় আসনের বিভিন্ন এলাকায় এখনো রয়ে গেছে নির্বাচনি পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন। জেলা সদরসহ ছয় উপজেলার প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাজার এলাকা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ ছেয়ে আছে এসব প্রচারসামগ্রীতে। এতে একদিকে যেমন শহরের সৌন্দর্য বিঘ্নিত হচ্ছে, তেমনি নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।

নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের সব ধরনের প্রচারসামগ্রী অপসারণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অথচ নীলফামারীতে এই নির্দেশনার বাস্তবিক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নীলফামারী শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে সদর ও বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি, গাছ ও দেয়াল জুড়ে অসংখ্য পোস্টার এখনো ঝুলে আছে। অনেক স্থানে ছেঁড়া ব্যানার বিপজ্জনকভাবে ঝুলে থাকায় পথচারী ও যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষক নারায়ণ সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নির্বাচন শেষ হলেও অনেক প্রার্থী নিজ উদ্যোগে তাদের প্রচারসামগ্রী সরাতে কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এতে শুধু পরিবেশ দূষণই হচ্ছে না, বর্ষা মৌসুমে এসব বর্জ্য নালায় জমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ বলেন, “নির্বাচন শেষে পোস্টার ও ব্যানার অপসারণের বিষয়ে প্রার্থীদের আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। যারা এখনো তা সরাননি, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খুব শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করাসহ বিশেষ অভিযান চালানো হবে।” তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সব নির্বাচনি প্রচারসামগ্রী অপসারণ নিশ্চিত করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা না গেলে ভবিষ্যতে আইন মানার সংস্কৃতি দুর্বল হয়ে পড়বে। সচেতন মহল দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এই অনিয়ম বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছে। নাগরিকদের অভিমত, নির্বাচন কেবল ভোটগ্রহণে শেষ নয়; নির্বাচন পরবর্তী শৃঙ্খলা, আইন মানা এবং পরিবেশ রক্ষাও একটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্টের

নীলফামারীতে এখনো সরেনি নির্বাচনি প্রচারসামগ্রী: প্রশ্নবিদ্ধ আচরণবিধি ও পরিবেশ দূষণ

আপডেট সময় : ০২:১৮:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও নীলফামারী জেলার চারটি সংসদীয় আসনের বিভিন্ন এলাকায় এখনো রয়ে গেছে নির্বাচনি পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন। জেলা সদরসহ ছয় উপজেলার প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাজার এলাকা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ ছেয়ে আছে এসব প্রচারসামগ্রীতে। এতে একদিকে যেমন শহরের সৌন্দর্য বিঘ্নিত হচ্ছে, তেমনি নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।

নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের সব ধরনের প্রচারসামগ্রী অপসারণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অথচ নীলফামারীতে এই নির্দেশনার বাস্তবিক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নীলফামারী শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে সদর ও বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি, গাছ ও দেয়াল জুড়ে অসংখ্য পোস্টার এখনো ঝুলে আছে। অনেক স্থানে ছেঁড়া ব্যানার বিপজ্জনকভাবে ঝুলে থাকায় পথচারী ও যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষক নারায়ণ সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নির্বাচন শেষ হলেও অনেক প্রার্থী নিজ উদ্যোগে তাদের প্রচারসামগ্রী সরাতে কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এতে শুধু পরিবেশ দূষণই হচ্ছে না, বর্ষা মৌসুমে এসব বর্জ্য নালায় জমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ বলেন, “নির্বাচন শেষে পোস্টার ও ব্যানার অপসারণের বিষয়ে প্রার্থীদের আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। যারা এখনো তা সরাননি, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খুব শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করাসহ বিশেষ অভিযান চালানো হবে।” তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সব নির্বাচনি প্রচারসামগ্রী অপসারণ নিশ্চিত করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা না গেলে ভবিষ্যতে আইন মানার সংস্কৃতি দুর্বল হয়ে পড়বে। সচেতন মহল দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এই অনিয়ম বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছে। নাগরিকদের অভিমত, নির্বাচন কেবল ভোটগ্রহণে শেষ নয়; নির্বাচন পরবর্তী শৃঙ্খলা, আইন মানা এবং পরিবেশ রক্ষাও একটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।