ঢাকা ১২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

স্বাধীন সাংবাদিকতায় হস্তক্ষেপ ও গণমাধ্যমকর্মী ছাঁটাইয়ের চেষ্টার প্রতিবাদে ছাত্রশিবির

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৭:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

গণঅভ্যুত্থানোত্তর বাংলাদেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে জোরপূর্বক গণমাধ্যমকর্মী ছাঁটাইয়ের হীন চেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। আজ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ‘এখন টেলিভিশন’-এর চার সাংবাদিককে গণভোট ও সংস্কারের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মতপ্রকাশের কারণে শোকজ করা হয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব মোর্শেদকে জোরপূর্বক অব্যাহতি দেওয়ার জন্য বিএনপিপন্থি দলদাস কতিপয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচিত সরকারের শপথ গ্রহণের মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্যপ্রবাহের প্রশ্নে জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। নেতৃবৃন্দ এই ঘটনাকে স্বাধীনতা-পরবর্তী শেখ মুজিবের গণমাধ্যম দমনের ইতিহাসের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, আজকের এই ঘটনা নতুন বাংলাদেশে আরেকটি মুজিবীয় ফ্যাসিবাদের বহিঃপ্রকাশ এবং গণমাধ্যমের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে।

ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত সংস্কারের দাবিকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার এক হীন অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে সদ্য সমাপ্ত গণভোটে দেশের মানুষ ‘জুলাই সনদ’ ও সংস্কারের পক্ষে যে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে, বর্তমান সরকার তা মানতে অনীহা দেখাচ্ছে। নেতৃবৃন্দের মতে, একদিকে গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করা, অন্যদিকে গণমাধ্যম দখল ও উচ্চপর্যায়ে দলান্ধদের বসিয়ে গণবিরোধী অবস্থান নিয়ে জুলাইয়ের স্পিরিট লালনকারী সাংবাদিকদের টার্গেট করা—একই সূত্রে গাঁথা।

নেতৃবৃন্দ জোর দিয়ে বলেন, যারা জুলাইয়ের রক্তস্নাত আন্দোলনের প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরে জাতিকে মুক্তি দিতে অসামান্য ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের প্রতি এমন বৈষম্যমূলক আচরণ নতুন বাংলাদেশে কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আমরা অবিলম্বে ফ্যাসিবাদবিরোধী পাঁচ সাংবাদিককে সসম্মানে স্বপদে পুনর্বহালের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি। একইসাথে গণভোটের প্রদত্ত গণমানুষের রায় ও জুলাই সনদের প্রতিফলন ঘটিয়ে রাষ্ট্রপরিচালনা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তেলের দাম নয়, সংকট কাটাতে সেনা নামানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

স্বাধীন সাংবাদিকতায় হস্তক্ষেপ ও গণমাধ্যমকর্মী ছাঁটাইয়ের চেষ্টার প্রতিবাদে ছাত্রশিবির

আপডেট সময় : ০২:১৭:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গণঅভ্যুত্থানোত্তর বাংলাদেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে জোরপূর্বক গণমাধ্যমকর্মী ছাঁটাইয়ের হীন চেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। আজ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ‘এখন টেলিভিশন’-এর চার সাংবাদিককে গণভোট ও সংস্কারের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মতপ্রকাশের কারণে শোকজ করা হয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব মোর্শেদকে জোরপূর্বক অব্যাহতি দেওয়ার জন্য বিএনপিপন্থি দলদাস কতিপয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচিত সরকারের শপথ গ্রহণের মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্যপ্রবাহের প্রশ্নে জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। নেতৃবৃন্দ এই ঘটনাকে স্বাধীনতা-পরবর্তী শেখ মুজিবের গণমাধ্যম দমনের ইতিহাসের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, আজকের এই ঘটনা নতুন বাংলাদেশে আরেকটি মুজিবীয় ফ্যাসিবাদের বহিঃপ্রকাশ এবং গণমাধ্যমের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে।

ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত সংস্কারের দাবিকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার এক হীন অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে সদ্য সমাপ্ত গণভোটে দেশের মানুষ ‘জুলাই সনদ’ ও সংস্কারের পক্ষে যে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে, বর্তমান সরকার তা মানতে অনীহা দেখাচ্ছে। নেতৃবৃন্দের মতে, একদিকে গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করা, অন্যদিকে গণমাধ্যম দখল ও উচ্চপর্যায়ে দলান্ধদের বসিয়ে গণবিরোধী অবস্থান নিয়ে জুলাইয়ের স্পিরিট লালনকারী সাংবাদিকদের টার্গেট করা—একই সূত্রে গাঁথা।

নেতৃবৃন্দ জোর দিয়ে বলেন, যারা জুলাইয়ের রক্তস্নাত আন্দোলনের প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরে জাতিকে মুক্তি দিতে অসামান্য ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের প্রতি এমন বৈষম্যমূলক আচরণ নতুন বাংলাদেশে কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আমরা অবিলম্বে ফ্যাসিবাদবিরোধী পাঁচ সাংবাদিককে সসম্মানে স্বপদে পুনর্বহালের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি। একইসাথে গণভোটের প্রদত্ত গণমানুষের রায় ও জুলাই সনদের প্রতিফলন ঘটিয়ে রাষ্ট্রপরিচালনা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।