নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকার জনগণের আস্থা অর্জনে ‘১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা’ গ্রহণ করেছে। বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে এই অগ্রাধিকারগুলো নির্ধারণ করা হয়। মূলত জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী অস্থিরতা কাটিয়ে দেশে স্থিতিশীলতা ফেরানো এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি আনাই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষক খালিদুর রহমানের মতে, এই উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও এর সফলতা নির্ভর করবে কার্যকর বাস্তবায়ন ও জবাবদিহির ওপর।
রোজার মাস ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ: সরকারের জন্য সবচেয়ে নিকটবর্তী চ্যালেঞ্জ হলো আসন্ন রমজান মাস। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, রমজানকে যেন অতি মুনাফার মাস হিসেবে গণ্য করা না হয়। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাজার মনিটরিং জোরদার করা এবং সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রাখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, রোজায় পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং ইফতার ও তারাবির সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের শীর্ষ অগ্রাধিকারে রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি দমন: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে ১৮০ দিনের পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রতিটি থানাকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ‘মব কালচার’ বা গণপিটুনির মতো ঘটনা কঠোরভাবে দমনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমনেও জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, বিএনপি থেকে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্য শুল্কমুক্ত (ট্যাক্স ফ্রি) গাড়ি আমদানি করবেন না এবং প্লট সুবিধা নেবেন না। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিটি প্রতিষ্ঠান দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ১০০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিতে ১৫০টি কূপ খননের সমন্বিত রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি, নতুন সরকার দেশে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের অংশ হিসেবে প্রথম ১৮০ দিনেই তরুণদের জন্য বিশেষ দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। মেধাবী তরুণদের বিশ্ববাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রশাসন ও অর্থনৈতিক সংস্কার: অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি জানিয়েছেন, সরকার স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করবে। এবারের বাজেটে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’-এর মতো নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রতিফলন দেখা যাবে। এছাড়া যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহরের সংখ্যা কমানো এবং সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক করার মতো প্রতীকী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জনবান্ধব শাসনের সংকেত দিচ্ছে নতুন সরকার। ১৮০ দিনের এই পরীক্ষা শেষে সরকার কতটুকু সফল হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে আগামীর জনসমর্থন।
রিপোর্টারের নাম 
























