ফেনীর পরশুরাম পৌরসভায় ২০২৫ সালের জন্য আটটি হাট-বাজার ও গণপরিবহন স্ট্যান্ডের ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে এবারের ইজারা মূল্যে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক উল্লম্ফন। গত বছরের তুলনায় অধিকাংশ বাজারের ইজারা মূল্য এবার ৩ থেকে ৫ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে পশুর হাট ও সিএনজি স্ট্যান্ডের ইজারা দর কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, ইজারা মূল্যের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়বে পণ্যমূল্য ও যাতায়াত ভাড়ার ওপর।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে পরশুরাম পৌরসভার আটটি বাজারের ইজারা চূড়ান্ত করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে পরশুরাম বাজার স্থায়ী গো-হাট (ছাগল বাজারসহ)। গত বছর এই হাটের ইজারা মূল্য ছিল ২০ লাখ ৯১ হাজার ৫৫০ টাকা, যা এবার প্রায় তিন গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ লাখ ৩ হাজার ২০০ টাকায়। একইভাবে বাস ও সিএনজি স্ট্যান্ডের ইজারা দর গত বছরের ৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা থেকে প্রায় পাঁচ গুণ বেড়ে এবার হয়েছে ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
অন্যান্য বাজারের চিত্রও প্রায় একই। তরকারি, তোহা ও বাঁশ বাজারের ইজারা মূল্য ৮ লাখ ৪২ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে ২২ লাখ ১৪ হাজার ৭৪৫ টাকা। মাছ ও শুঁটকির বাজার ৩ লাখ ১২ হাজার থেকে বেড়ে ১০ লাখ ৩৩ হাজার টাকা এবং হাঁস-মুরগির বাজার ৯৬ হাজার থেকে বেড়ে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া মাংসের বাজার ও কসাইখানার ইজারা মূল্য ১ লাখ ৮২ হাজার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ টাকায়। বিলোনিয়া স্থলবন্দর সংলগ্ন স্ট্যান্ডের দরও ১ লাখ থেকে বেড়ে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা হয়েছে। তবে একমাত্র ব্যতিক্রম গুথুমা চৌধুরী বাজার, যেখানে ইজারা মূল্যে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই ইজারা মূল্যের সঙ্গে আরও ২৫ শতাংশ ভ্যাট ও আয়কর যুক্ত হবে। ফলে ইজারাদারদের প্রকৃত খরচ আরও বাড়বে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, বিপুল অংকের এই বিনিয়োগ তুলে নিতে ইজারাদাররা অতিরিক্ত ‘হাসিল’ বা খাজনা আদায় করতে পারেন। এতে একদিকে যেমন গবাদি পশুর দাম বাড়তে পারে, অন্যদিকে সিএনজি ও বাস ভাড়াও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
উচ্চমূল্যে ইজারা নেওয়া একজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অতীতে ইজারা প্রক্রিয়ায় কী হয়েছে সেটি বিবেচ্য নয়, তবে তারা কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সহনীয় পর্যায়ে খাজনা আদায়ের চেষ্টা করবেন। যদিও ব্যবসায়ীদের একটি অংশ মনে করছেন, ইজারা মূল্য, ভ্যাট-ট্যাক্স এবং আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে ইজারাদারদের লোকসানের মুখে পড়ার ঝুঁকিও থেকে যায়।
পরশুরাম পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম শাফায়াত আকতার নূর জানান, এবারের ইজারা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ সিন্ডিকেটমুক্ত ও স্বচ্ছ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। উচ্চ দরদাতাদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও পে-অর্ডার যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে নিয়ম অনুযায়ী তাদের হাতেই ইজারা হস্তান্তর করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 






















