সমস্যা জর্জরিত বাংলাদেশের সামনে অপার সম্ভাবনাও বিদ্যমান বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে যদি দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করা যায়, তবে এই জনসংখ্যাই হবে দেশের অমূল্য সম্পদ। এই দক্ষ জনশক্তি কেবল দেশেই নয়, বিশ্ব বাজারেও নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, সেখানে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হলে প্রত্যেককেই কোনো না কোনো বিষয়ে পারদর্শী হতে হবে।
দেশের শিক্ষার্থী, তরুণ ও যুবশক্তির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেধা, জ্ঞান এবং বিজ্ঞানে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। তিনি আরও জানান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং একটি উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার নিয়ে বর্তমান সরকার কাজ শুরু করেছে।
বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ভাষণের শুরুতে তিনি হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানান। তিনি বলেন, একটি তাবেদার মুক্ত, জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার দেশ পরিচালনায় যাত্রা শুরু করেছে। গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই যাত্রায় তিনি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী জনগণের কারণেই দেশে মানুষের অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি এক বার্তায় বলেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সকল ধর্ম-বর্ণ, দলমত নির্বিশেষে, পাহাড়ে বা সমতলে বসবাসকারী—সকলেই এই দেশের নাগরিক এবং এই দেশ আমাদের সবার। প্রতিটি নাগরিকের জন্য এই দেশকে একটি নিরাপদ ভূমি হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই বিএনপি সরকারের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী সময়ে দুর্নীতির কারণে ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের পথচলা শুরু হয়েছে। সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করে জনগণের মনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশব্যাপী জুয়া ও মাদকের বিস্তারকে আইনশৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সরকার। তাই, জুয়া ও মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ পর্যায়ের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিধিবদ্ধ নীতি অনুযায়ী পরিচালিত হবে। দলীয় প্রভাব, রাজনৈতিক প্রতিপত্তি বা জোর জবরদস্তি নয়, বরং আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি।
রিপোর্টারের নাম 

























