ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরও নীলফামারী-৪ আসনের বিভিন্ন এলাকায় এখনো সরানো হয়নি প্রার্থীদের নির্বাচনী পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানার। ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব প্রচারসামগ্রী অপসারণের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও, দিনের পর দিন ধরে বিদ্যুতের খুঁটি, দেয়াল এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অবহেলায় ঝুলছে এগুলো, যা একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ করছে, তেমনি নগরীর সৌন্দর্যও বিঘ্নিত করছে।
নীলফামারী-৪ আসনের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নির্বাচনী ডামাডোল থামলেও তার রেশ রয়ে গেছে জনপদে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা তাদের প্রচারসামগ্রী সরাতে ব্যর্থ হয়েছেন। কোথাও বড় আকারের ব্যানার বাতাসে উড়ছে, কোথাও আবার ছেঁড়া পোস্টার অবহেলিত অবস্থায় ঝুলে আছে।
নির্বাচন কমিশনের সুনির্দিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সকল প্রার্থীকে নিজ দায়িত্বে তাদের নির্বাচনী প্রচারসামগ্রী অপসারণ করতে হয়। তবে বাস্তবে এই বিধি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত হচ্ছে। ফলে নির্বাচনী পরিবেশ শেষ হলেও প্রচারসামগ্রী রয়ে গেছে সর্বত্র।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে এই আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে ইতোমধ্যে শপথ গ্রহণ করেছেন।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাযহারুল ইসলাম বলেন, “কিছু প্রচারসামগ্রী ইতোমধ্যে সরানো হয়েছে। বাকি অংশ রাতের মধ্যেই অপসারণ করা হবে।”
অন্যদিকে, সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি ও ধানের শীষের প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার জানান, “আমার নির্বাচনী প্রচারসামগ্রী সরানোর কাজ চলছে। যেগুলো এখনো রয়ে গেছে, সেগুলো দ্রুত অপসারণ করা হবে।”
এ পরিস্থিতিতে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা জানান, নির্ধারিত সময়সীমা পর্যন্ত প্রার্থীদের নিজ দায়িত্বে প্রচারসামগ্রী সরানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও যদি অপসারণ করা না হয়, তাহলে প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে নিজ উদ্যোগে এসব ব্যানার-পোস্টার সরিয়ে ফেলবে।
এ অবস্থায় সচেতন নাগরিক মহল দ্রুত পরিবেশ ও নগর সৌন্দর্য রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















