ঢাকা ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

রমজানের শুরুতেই নওগাঁয় অগ্নিমূল্য বাজার: মুরগি-সবজিসহ লাফিয়ে বাড়ছে পণ্যের দাম, ভোগান্তিতে ক্রেতারা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

রমজানের শুরুতেই নওগাঁর নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মুরগি, বেগুন, কাঁচামরিচ, লেবু, আদা ও রসুনসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। পবিত্র মাস শুরুর প্রাক্কালে এমন মূল্যবৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি খরচের চাপ সৃষ্টি করেছে, যা তাদের দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে ছোলা, ডাল ও ভোজ্যতেলের মতো কিছু পণ্যের দাম এখনো স্থিতিশীল রয়েছে।

রমজানের প্রথম দিন থেকেই নওগাঁর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে এখন ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে সোনালি ও লেয়ার মুরগির দামও ২০ থেকে ৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় পৌঁছেছে। নওগাঁ শহরের পৌর মুরগি বাজারের বিক্রেতা আবুল কালাম জানান, খামার থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে এবং একইসাথে বাজারে মুরগির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।

মুরগির পাশাপাশি সবজির বাজারেও লেগেছে মূল্যবৃদ্ধির ছোঁয়া। এক সপ্তাহ আগে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া বেগুন এখন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়ে ১৩০-১৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ৩৫-৪০ টাকা হালির লেবু বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়। এছাড়া করলার দাম ২০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকা কেজি হয়েছে। অন্যান্য সবজির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দামও বেড়েছে। ৮০-৯০ টাকা কেজির রসুন এখন ১৩০-১৪০ টাকায় এবং আদা ১৩০-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দামও কেজিপ্রতি ৫ থেকে ৭ টাকা বেড়েছে। ইফতারের অন্যতম অনুসঙ্গ সাধারণ মানের খেজুরের দামও কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে ২৪০-২৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। পাকা মানিক (শবরি কলা) ৩০ টাকা হালি থেকে বেড়ে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতারা পড়েছেন চরম বিপাকে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। বাজার করতে আসা গৃহিণী মরিয়ম বেগম জানান, মুরগি, বেগুন ও কাঁচামরিচের দাম অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে কম পরিমাণে কিনতে হয়েছে। আরেক ক্রেতা রাকিব হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রোজার শুরুতেই অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে, কারণ আয় তো বাড়ছে না, শুধু খরচই বাড়ছে।” ক্রেতারা অভিযোগ করে বলছেন, রমজান এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর দাম বাড়ানোর প্রবণতা এবারও স্পষ্ট। নিয়মিত বাজার তদারকি না থাকার কারণেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে বলে তাদের দাবি। তারা নতুন সরকারের কাছে বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, অন্যথায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।

অন্যদিকে, বিক্রেতারা মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ভিন্ন যুক্তি দেখাচ্ছেন। পৌর কাঁচাবাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাদশা আলী বলেন, “এই সময়ে কিছু পণ্যের সরবরাহ কমে যায় আবার কিছু নতুন পণ্য বাজারে আসে, এ কারণে সপ্তাহের ব্যবধানে কিছু জিনিসের দাম বেড়েছে। তবে বাজারে কোনো সংকট নেই।” তিনি আরও বলেন, “সামনে দাম আরও বাড়বে কিনা, তা আমদানির ওপর নির্ভর করবে।” কিছু বিক্রেতা বলছেন, রমজানের শুরুতে অনেক ভোক্তা একসঙ্গে বেশি বাজার করায় কিছু পণ্যের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়েছে, যা দাম বাড়ার একটি কারণ।

এই পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নওগাঁর সহকারী পরিচালক রুবেল আহমেদ জানিয়েছেন, “বাজার সহনীয় পর্যায়ে রাখতে প্রতিদিনই আমরা বাজার মনিটর করছি। কোনো ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি কোনো ভোক্তা দাম বৃদ্ধির অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্টের

রমজানের শুরুতেই নওগাঁয় অগ্নিমূল্য বাজার: মুরগি-সবজিসহ লাফিয়ে বাড়ছে পণ্যের দাম, ভোগান্তিতে ক্রেতারা

আপডেট সময় : ০৩:২১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রমজানের শুরুতেই নওগাঁর নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মুরগি, বেগুন, কাঁচামরিচ, লেবু, আদা ও রসুনসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। পবিত্র মাস শুরুর প্রাক্কালে এমন মূল্যবৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি খরচের চাপ সৃষ্টি করেছে, যা তাদের দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে ছোলা, ডাল ও ভোজ্যতেলের মতো কিছু পণ্যের দাম এখনো স্থিতিশীল রয়েছে।

রমজানের প্রথম দিন থেকেই নওগাঁর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে এখন ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে সোনালি ও লেয়ার মুরগির দামও ২০ থেকে ৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় পৌঁছেছে। নওগাঁ শহরের পৌর মুরগি বাজারের বিক্রেতা আবুল কালাম জানান, খামার থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে এবং একইসাথে বাজারে মুরগির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।

মুরগির পাশাপাশি সবজির বাজারেও লেগেছে মূল্যবৃদ্ধির ছোঁয়া। এক সপ্তাহ আগে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া বেগুন এখন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়ে ১৩০-১৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ৩৫-৪০ টাকা হালির লেবু বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়। এছাড়া করলার দাম ২০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকা কেজি হয়েছে। অন্যান্য সবজির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দামও বেড়েছে। ৮০-৯০ টাকা কেজির রসুন এখন ১৩০-১৪০ টাকায় এবং আদা ১৩০-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দামও কেজিপ্রতি ৫ থেকে ৭ টাকা বেড়েছে। ইফতারের অন্যতম অনুসঙ্গ সাধারণ মানের খেজুরের দামও কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে ২৪০-২৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। পাকা মানিক (শবরি কলা) ৩০ টাকা হালি থেকে বেড়ে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতারা পড়েছেন চরম বিপাকে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। বাজার করতে আসা গৃহিণী মরিয়ম বেগম জানান, মুরগি, বেগুন ও কাঁচামরিচের দাম অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে কম পরিমাণে কিনতে হয়েছে। আরেক ক্রেতা রাকিব হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রোজার শুরুতেই অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে, কারণ আয় তো বাড়ছে না, শুধু খরচই বাড়ছে।” ক্রেতারা অভিযোগ করে বলছেন, রমজান এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর দাম বাড়ানোর প্রবণতা এবারও স্পষ্ট। নিয়মিত বাজার তদারকি না থাকার কারণেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে বলে তাদের দাবি। তারা নতুন সরকারের কাছে বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, অন্যথায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।

অন্যদিকে, বিক্রেতারা মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ভিন্ন যুক্তি দেখাচ্ছেন। পৌর কাঁচাবাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাদশা আলী বলেন, “এই সময়ে কিছু পণ্যের সরবরাহ কমে যায় আবার কিছু নতুন পণ্য বাজারে আসে, এ কারণে সপ্তাহের ব্যবধানে কিছু জিনিসের দাম বেড়েছে। তবে বাজারে কোনো সংকট নেই।” তিনি আরও বলেন, “সামনে দাম আরও বাড়বে কিনা, তা আমদানির ওপর নির্ভর করবে।” কিছু বিক্রেতা বলছেন, রমজানের শুরুতে অনেক ভোক্তা একসঙ্গে বেশি বাজার করায় কিছু পণ্যের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়েছে, যা দাম বাড়ার একটি কারণ।

এই পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নওগাঁর সহকারী পরিচালক রুবেল আহমেদ জানিয়েছেন, “বাজার সহনীয় পর্যায়ে রাখতে প্রতিদিনই আমরা বাজার মনিটর করছি। কোনো ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি কোনো ভোক্তা দাম বৃদ্ধির অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”