রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যাদের কার্যক্রম সীমিত বা নিষিদ্ধ বলে বিবেচিত হচ্ছে, সেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা চট্টগ্রামে আবারো দলীয় কার্যালয়ে ব্যানার টাঙিয়ে ও পতাকা উত্তোলন করে তাদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে। এসব ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের আইডি থেকে শেয়ার করা হচ্ছে। একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটলেও পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তা ঠেকানো বা জড়িতদের গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বুধবার সকালে জুলাই গণহত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত এবং বর্তমানে পলাতক হিসেবে পরিচিত সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আইডি থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওতে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১৮ মাস পর চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের দারুল ফজল মার্কেটস্থ অফিসে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ব্যানার লাগানোর কাজে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের আরিফ হোসেন, নুরুল হক বাহার, মো. সাইমুন আজাদ এবং মো. আয়াত জড়িত ছিলেন বলেও তিনি লেখেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, চারজন যুবক মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয় লেখা একটি ব্যানার ও ছাত্রলীগের একটি পতাকা হাতে নিয়ে ভিডিও করছেন। এরপর তারা ব্যানারটি দারুল ফজল মার্কেটের ওই অফিসের দরজার ওপরে লাগিয়ে দেন এবং দলীয় পতাকা ঝুলিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এর আগেও একই ধরনের কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই গত দুদিন ধরে কোতোয়ালি থানা থেকে মাত্র তিনশো গজ দূরে অবস্থিত উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ব্যানার টাঙিয়েছিল আওয়ামী লীগের কর্মীরা। একই দিনে লালদিঘির পাড়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের কার্যালয়ের সামনের দেওয়ালে থাকা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে স্লোগান দেয় তারা। অপরদিকে মিরসরাই উপজেলায় যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নিয়াজ মোর্শেদ এলিটের নির্দেশে দলীয় কার্যালয় খুলে সেখানেও কর্মীরা তৎপরতা চালায়। এসব ঘটনার ভিডিও পরবর্তীতে নওফেলের আইডি থেকে পোস্ট করা হয়।
আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এভাবে একের পর এক দলীয় কার্যালয়ে ঘণ্টাখানেকের বেশি সময় ধরে অবস্থান করে কার্যক্রম চালালেও পুলিশ বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কোনো ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তারও করতে পারেনি সিএমপি।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন বলেন, “তারা হঠাৎ করে এসে স্লোগান দিয়ে একটা ব্যানার টাঙিয়ে দ্রুত চলে যায়। রাস্তার ওপর ভাস্কর্য পরিষ্কার করে চলে যাচ্ছে। বলুন, আমরা কিভাবে তাদের নজরে রাখব?” তিনি আরও জানান, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হলেও কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
রিপোর্টারের নাম 





















