ঢাকা ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

কৃষিই অর্থনীতির প্রাণ, চাঙা করতে কৃষি উন্নয়ন অপরিহার্য: নতুন মন্ত্রী ইয়াছিন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪১:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

নবনিযুক্ত কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে কৃষিখাতের উন্নয়নে সর্বোচ্চ জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে হলে কৃষির সামগ্রিক উন্নতি অপরিহার্য। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে শপথ গ্রহণের পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং তার তিনটি মন্ত্রণালয়ের কাজের আন্তঃসম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন।

“তিনটি মন্ত্রণালয়ই পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত,” উল্লেখ করে মন্ত্রী ইয়াছিন বলেন, “মাছ, ধান-গম, পশু ও অন্যান্য কৃষি ফসল সবই খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। তাই এই তিনটি মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করা আমার জন্য অনেক সহজ হবে।” তিনি আরও জানান যে, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য একজন করে প্রতিমন্ত্রীও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন যে দেশের অর্থনীতিকে চাঙা করতে হলে কৃষির উন্নয়ন অত্যাবশ্যক।

বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত উল্লেখ করে নবনিযুক্ত মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। কৃষি ভালো থাকলেই দেশের অর্থনীতি ভালো থাকবে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।” প্রধানমন্ত্রী তাকে যে বিশাল দায়িত্ব দিয়েছেন, তা পূরণ করতে তিনি সাধ্যমতো চেষ্টা করবেন বলেও জানান।

নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে কৃষিমন্ত্রী ইয়াছিন বলেন, “আমি সারাজীবন রাজনীতি করে এসেছি মানুষের জন্য, দেশের কল্যাণে কাজ করার জন্য। আমাকে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যেটিকে আমি মনেপ্রাণে ধারণ করি ও লালন করি।” তিনি তার দীর্ঘদিনের একটি চিন্তার কথা তুলে ধরেন, “ছোটবেলা থেকেই আমার মনে প্রশ্ন জাগতো, পৃথিবীর যেসব দেশে বছরে ছয় মাস বরফ ঢাকা থাকে, তারা ধনী হয়, অথচ আমার দেশে বারো মাস ফসল উৎপাদন হয়, তবুও আমরা গরিব। আমরা কি কোথাও নীতিগত ভুল করছি?” আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া এবং প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “সারাজীবন যে বিষয় নিয়ে চিন্তা করেছি, সেটি নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ। এই খাতকে এগিয়ে নিতে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাজি আমিন উর রশিদ ইয়াছিন সম্প্রতি কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদসহ তিনটি মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। কুমিল্লা-৬ আসন থেকে তিনি বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে মনোনয়ন না পেয়ে দলের মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীর পক্ষে কাজ করেন। দীর্ঘদিন দলের দুঃসময়ে বিএনপিকে আগলে রাখার পুরস্কারস্বরূপ সংসদ সদস্য না হয়েও তিনি টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে মন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান।

হাজি ইয়াছিনের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কুমিল্লা-৯ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০১ সালে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মনোনীত হন। এরপর ২০০৯ সালে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানা বিএনপির সভাপতি এবং একই বছর কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষি বিষয়ক সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক এবং ২০২২ সালের ৩০ মে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হন। সর্বশেষ, তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মনোনীত হন।

সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় তার অনুসারীরা দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে রাজপথে আন্দোলন করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি কুমিল্লা-৬ আসনে (সদর, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুরোধে তা প্রত্যাহার করে নেন। পরবর্তীতে তিনি দলীয় প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেন। রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো এবং দলের প্রতি তার আনুগত্যের কারণেই তাকে মন্ত্রীত্ব দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্টের

কৃষিই অর্থনীতির প্রাণ, চাঙা করতে কৃষি উন্নয়ন অপরিহার্য: নতুন মন্ত্রী ইয়াছিন

আপডেট সময় : ০১:৪১:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নবনিযুক্ত কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে কৃষিখাতের উন্নয়নে সর্বোচ্চ জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে হলে কৃষির সামগ্রিক উন্নতি অপরিহার্য। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে শপথ গ্রহণের পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং তার তিনটি মন্ত্রণালয়ের কাজের আন্তঃসম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন।

“তিনটি মন্ত্রণালয়ই পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত,” উল্লেখ করে মন্ত্রী ইয়াছিন বলেন, “মাছ, ধান-গম, পশু ও অন্যান্য কৃষি ফসল সবই খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। তাই এই তিনটি মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করা আমার জন্য অনেক সহজ হবে।” তিনি আরও জানান যে, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য একজন করে প্রতিমন্ত্রীও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন যে দেশের অর্থনীতিকে চাঙা করতে হলে কৃষির উন্নয়ন অত্যাবশ্যক।

বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত উল্লেখ করে নবনিযুক্ত মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। কৃষি ভালো থাকলেই দেশের অর্থনীতি ভালো থাকবে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।” প্রধানমন্ত্রী তাকে যে বিশাল দায়িত্ব দিয়েছেন, তা পূরণ করতে তিনি সাধ্যমতো চেষ্টা করবেন বলেও জানান।

নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে কৃষিমন্ত্রী ইয়াছিন বলেন, “আমি সারাজীবন রাজনীতি করে এসেছি মানুষের জন্য, দেশের কল্যাণে কাজ করার জন্য। আমাকে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যেটিকে আমি মনেপ্রাণে ধারণ করি ও লালন করি।” তিনি তার দীর্ঘদিনের একটি চিন্তার কথা তুলে ধরেন, “ছোটবেলা থেকেই আমার মনে প্রশ্ন জাগতো, পৃথিবীর যেসব দেশে বছরে ছয় মাস বরফ ঢাকা থাকে, তারা ধনী হয়, অথচ আমার দেশে বারো মাস ফসল উৎপাদন হয়, তবুও আমরা গরিব। আমরা কি কোথাও নীতিগত ভুল করছি?” আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া এবং প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “সারাজীবন যে বিষয় নিয়ে চিন্তা করেছি, সেটি নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ। এই খাতকে এগিয়ে নিতে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাজি আমিন উর রশিদ ইয়াছিন সম্প্রতি কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদসহ তিনটি মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। কুমিল্লা-৬ আসন থেকে তিনি বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে মনোনয়ন না পেয়ে দলের মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীর পক্ষে কাজ করেন। দীর্ঘদিন দলের দুঃসময়ে বিএনপিকে আগলে রাখার পুরস্কারস্বরূপ সংসদ সদস্য না হয়েও তিনি টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে মন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান।

হাজি ইয়াছিনের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কুমিল্লা-৯ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০১ সালে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মনোনীত হন। এরপর ২০০৯ সালে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানা বিএনপির সভাপতি এবং একই বছর কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষি বিষয়ক সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক এবং ২০২২ সালের ৩০ মে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হন। সর্বশেষ, তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মনোনীত হন।

সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় তার অনুসারীরা দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে রাজপথে আন্দোলন করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি কুমিল্লা-৬ আসনে (সদর, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুরোধে তা প্রত্যাহার করে নেন। পরবর্তীতে তিনি দলীয় প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেন। রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো এবং দলের প্রতি তার আনুগত্যের কারণেই তাকে মন্ত্রীত্ব দেওয়া হয়েছে।