কুমিল্লার তিতাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া মমিনকে অনতিবিলম্বে কর্মস্থল ত্যাগের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কুমিল্লা-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া। জনরোষ বা ‘মব’ সৃষ্টির আগেই তাকে সম্মানজনকভাবে বদলি হয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় উদ্ভূত পরিস্থিতির দায়ভার প্রশাসনকেই নিতে হবে।
গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) তিতাসের মেসার্স মৃত্তিকা এন্টারপ্রাইজ সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত এক শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিতাস উপজেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের সম্মানে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল।
অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, নির্বাচনের সময় থেকেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ‘বিমাতাসুলভ’ ও অপেশাদার আচরণ করে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে তাকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। সেখানে তিনি বলেন, “এই উপজেলা প্রশাসন থেকে আমি সবচেয়ে বেশি বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছি। বিশেষ করে ইউএনও সুমাইয়া মমিন আমাদের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করেছেন বলে আমি অসংখ্য অভিযোগ পেয়েছি।”
বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইউএনওর সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। জনগণের সঙ্গে অসদাচরণকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিতে হয় তা তার জানা আছে উল্লেখ করে এমপি বলেন, “আমি আশা করি, তিনি নিজের সম্মান বজায় রেখে দ্রুত এখান থেকে বদলি হয়ে চলে যাবেন। আমি তাকে সতর্ক করে দিচ্ছি—যদি কোনো কারণে জনরোষ বা ‘মব’ তৈরি হয়, তবে তার জন্য তিনি নিজেই দায়ী থাকবেন।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তিতাস উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওসমান গনি ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মহিউদ্দিন এবং তিতাস উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন সরকারসহ স্থানীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
রিপোর্টারের নাম 





















