ঢাকা ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

বরিশালে শ্রমিক নেতাকে মারধরের অভিযোগ বাস মালিক সভাপতির বিরুদ্ধে, নথুল্লাবাদে উত্তেজনা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩০:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে শ্রমিক ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ ও চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে আরজু মৃধা নামে এক শ্রমিক নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মোশারফ হোসেন বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি এবং বরিশাল-৫ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ারের ভাই। মঙ্গলবার রাতে শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বরিশাল বাস মালিক গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নেন মোশারফ হোসেন। তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের নিয়ে সিন্ডিকেট গঠন করেছেন এবং দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বঞ্চিত ও নির্যাতিত শ্রমিকদের নানাভাবে হয়রানি করছেন।

ভুক্তভোগী বরিশাল জেলা শ্রমিক দলের সদস্য আরজু মৃধা অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার রাতে তিনি ইউনিয়ন কার্যালয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করছিলেন। এ সময় মোশারফ হোসেন ও কথিত সাধারণ সম্পাদক মোস্তফাসহ বেশ কয়েকজন এসে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আরজু মৃধার দাবি, তিনি বর্তমান মালিক সমিতির একচ্ছত্র আধিপত্য ও আওয়ামী লীগের লোকদের নিয়ে গঠিত সিন্ডিকেটের প্রতিবাদ করায় তাকে আগে থেকেই কার্যালয়ে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল।

অন্যদিকে, মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশারফ হোসেন দাবি করেন, আরজু মৃধা শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় দখল করতে এসেছিলেন। তিনি জোরপূর্বক সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসে পড়লে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। মোশারফ হোসেনের অভিযোগ, জুলাই অভ্যুত্থানের পর কিছু লোক সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে সমিতিতে চাঁদাবাজি করছে এবং আরজু মৃধা তাদের সহযোগিতা দিচ্ছেন। দখল চেষ্টার কারণেই তাকে ‘সামান্য’ মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ঘটনার পর টার্মিনাল এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে মোশারফ হোসেনসহ উভয় পক্ষকে হেফাজতে নেয়। পরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার শর্তে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না—এমন মুচলেকা নিয়ে ঘণ্টাখানেক পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুস সালাম জানান, শ্রমিক ইউনিয়নের চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে মালিক ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং টার্মিনালের পরিবেশ স্বাভাবিক আছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্টের

বরিশালে শ্রমিক নেতাকে মারধরের অভিযোগ বাস মালিক সভাপতির বিরুদ্ধে, নথুল্লাবাদে উত্তেজনা

আপডেট সময় : ১১:৩০:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে শ্রমিক ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ ও চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে আরজু মৃধা নামে এক শ্রমিক নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মোশারফ হোসেন বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি এবং বরিশাল-৫ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ারের ভাই। মঙ্গলবার রাতে শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বরিশাল বাস মালিক গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নেন মোশারফ হোসেন। তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের নিয়ে সিন্ডিকেট গঠন করেছেন এবং দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বঞ্চিত ও নির্যাতিত শ্রমিকদের নানাভাবে হয়রানি করছেন।

ভুক্তভোগী বরিশাল জেলা শ্রমিক দলের সদস্য আরজু মৃধা অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার রাতে তিনি ইউনিয়ন কার্যালয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করছিলেন। এ সময় মোশারফ হোসেন ও কথিত সাধারণ সম্পাদক মোস্তফাসহ বেশ কয়েকজন এসে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আরজু মৃধার দাবি, তিনি বর্তমান মালিক সমিতির একচ্ছত্র আধিপত্য ও আওয়ামী লীগের লোকদের নিয়ে গঠিত সিন্ডিকেটের প্রতিবাদ করায় তাকে আগে থেকেই কার্যালয়ে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল।

অন্যদিকে, মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশারফ হোসেন দাবি করেন, আরজু মৃধা শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় দখল করতে এসেছিলেন। তিনি জোরপূর্বক সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসে পড়লে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। মোশারফ হোসেনের অভিযোগ, জুলাই অভ্যুত্থানের পর কিছু লোক সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে সমিতিতে চাঁদাবাজি করছে এবং আরজু মৃধা তাদের সহযোগিতা দিচ্ছেন। দখল চেষ্টার কারণেই তাকে ‘সামান্য’ মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ঘটনার পর টার্মিনাল এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে মোশারফ হোসেনসহ উভয় পক্ষকে হেফাজতে নেয়। পরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার শর্তে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না—এমন মুচলেকা নিয়ে ঘণ্টাখানেক পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুস সালাম জানান, শ্রমিক ইউনিয়নের চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে মালিক ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং টার্মিনালের পরিবেশ স্বাভাবিক আছে।