ঢাকা ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

লোহাগাড়ায় সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড়: নেপথ্যে সাবেক সামরিক সচিবের প্রভাবশালী স্বজনরা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১২:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বিশাল এলাকার গাছ কেটে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক সচিব প্রয়াত মিয়া মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীনের নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে। চুনতি রেঞ্জের সাতগড় বিটের আওতাধীন প্রায় ১২ একর বনভূমি ও সুফল প্রকল্পের বাগান উজাড় করে সেখানে মাছের প্রজেক্ট ও পানের বরজ তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য আনোয়ার কামাল এবং তার চাচাতো ভাই নজরুল এই বন নিধনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আনোয়ার কামাল সাবেক সামরিক সচিবের মামাতো ভাই। প্রভাবশালী এই সিন্ডিকেটের ভয়ে স্থানীয়রা মুখ খুলতে না পারলেও বনের গাছ পাচার ও জমি দখলের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চুনতি রেঞ্জের সাতগড় বিটের আওতাধীন বদরঘোনা এলাকায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কয়েক হাজার গাছ কেটে সাবাড় করা হয়েছে। সেখানে বনের জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে ১০টিরও বেশি মাছের প্রজেক্ট এবং অর্ধশতাধিক পানের বরজ। শুধু তাই নয়, পার্শ্ববর্তী নুরুলের খামার ও সংলগ্ন এলাকায় আরও প্রায় ২০ একর বনভূমি অবৈধ দখলদারদের কবলে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বনের গাছ কেটে দিনের আলোতেই বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে, অথচ বন বিভাগ রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে।

এদিকে, লোহাগাড়ার লম্বাশিয়া ও জাঙ্গালিয়া এলাকায় বন নিধনের আরেকটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গাছ ব্যবসায়ী বেলাল ও নুর ইসলাম রাতের আঁধারে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে গাছ কেটে ট্রাক ভর্তি করে পাচার করছে। এসব গাছ পার্শ্ববর্তী বাঁশখাইল্ল্যা পাড়ার একটি খামারে স্তূপ করে রাখা হয় এবং পরে সুবিধাজনক সময়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই এই বনাঞ্চল মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বন নিধনের বিষয়ে জানতে চাইলে চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা আবির হোসেন দাবি করেন, গাছ উজাড় হওয়া এলাকাটির একাংশ তাদের আওতাধীন নয়, বরং সেটি পার্বত্য অঞ্চলের মধ্যে পড়েছে। তবে বনের জমি রক্ষা ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে তাদের অভিযান চলমান থাকে বলে তিনি জানান।

সার্বিক বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চল দখল বা গাছ কাটার সাথে জড়িত ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে সহায়তা করেন, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্টের

লোহাগাড়ায় সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড়: নেপথ্যে সাবেক সামরিক সচিবের প্রভাবশালী স্বজনরা

আপডেট সময় : ১০:১২:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বিশাল এলাকার গাছ কেটে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক সচিব প্রয়াত মিয়া মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীনের নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে। চুনতি রেঞ্জের সাতগড় বিটের আওতাধীন প্রায় ১২ একর বনভূমি ও সুফল প্রকল্পের বাগান উজাড় করে সেখানে মাছের প্রজেক্ট ও পানের বরজ তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য আনোয়ার কামাল এবং তার চাচাতো ভাই নজরুল এই বন নিধনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আনোয়ার কামাল সাবেক সামরিক সচিবের মামাতো ভাই। প্রভাবশালী এই সিন্ডিকেটের ভয়ে স্থানীয়রা মুখ খুলতে না পারলেও বনের গাছ পাচার ও জমি দখলের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চুনতি রেঞ্জের সাতগড় বিটের আওতাধীন বদরঘোনা এলাকায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কয়েক হাজার গাছ কেটে সাবাড় করা হয়েছে। সেখানে বনের জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে ১০টিরও বেশি মাছের প্রজেক্ট এবং অর্ধশতাধিক পানের বরজ। শুধু তাই নয়, পার্শ্ববর্তী নুরুলের খামার ও সংলগ্ন এলাকায় আরও প্রায় ২০ একর বনভূমি অবৈধ দখলদারদের কবলে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বনের গাছ কেটে দিনের আলোতেই বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে, অথচ বন বিভাগ রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে।

এদিকে, লোহাগাড়ার লম্বাশিয়া ও জাঙ্গালিয়া এলাকায় বন নিধনের আরেকটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গাছ ব্যবসায়ী বেলাল ও নুর ইসলাম রাতের আঁধারে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে গাছ কেটে ট্রাক ভর্তি করে পাচার করছে। এসব গাছ পার্শ্ববর্তী বাঁশখাইল্ল্যা পাড়ার একটি খামারে স্তূপ করে রাখা হয় এবং পরে সুবিধাজনক সময়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই এই বনাঞ্চল মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বন নিধনের বিষয়ে জানতে চাইলে চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা আবির হোসেন দাবি করেন, গাছ উজাড় হওয়া এলাকাটির একাংশ তাদের আওতাধীন নয়, বরং সেটি পার্বত্য অঞ্চলের মধ্যে পড়েছে। তবে বনের জমি রক্ষা ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে তাদের অভিযান চলমান থাকে বলে তিনি জানান।

সার্বিক বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চল দখল বা গাছ কাটার সাথে জড়িত ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে সহায়তা করেন, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।