ঢাকা ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

পাকুন্দিয়ায় হলুদের সমারোহ: কম খরচে সূর্যমুখী চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১১:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার দিগন্তজোড়া মাঠজুড়ে এখন কেবলই হলুদের আভা। ভোরের সূর্যের দিকে মুখ করে থাকা সারি সারি সূর্যমুখী ফুলের এই নান্দনিক দৃশ্য শুধু পথচারীদের চোখই জুড়াচ্ছে না, বরং স্থানীয় কৃষকদের মনেও জোগাচ্ছে নতুন আশার সঞ্চার। কম খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় এ অঞ্চলে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সূর্যমুখী চাষ। ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এই দৃষ্টিনন্দন বাগানগুলো এখন বিনোদনপিপাসু ও প্রকৃতিপ্রেমীদের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পাকুন্দিয়ার বড়আজলদী ও চণ্ডিপাশাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের বীজ ও সারের পাশাপাশি নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। তেলের গুণাগুণ ও ভালো বাজারমূল্য থাকায় সাধারণ কৃষকরা এখন ধান বা অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

সরেজমিনে বড়আজলদী গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে ফুটে থাকা সূর্যমুখী ফুল এক অপূর্ব সৌন্দর্যের সৃষ্টি করেছে। এ গ্রামের কৃষক মজনু মিয়া এবারই প্রথম তার ৩৩ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। তিনি জানান, কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতায় তিনি এই আবাদ শুরু করেন। খুব সামান্য ব্যয়ে ভালো ফলনের আভাস পাওয়ায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। একই গ্রামের কৃষক হাদিউল ইসলামও তার দুই বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। তার ক্ষেতেও ফুলের সমারোহ দেখে তিনি লাভবান হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, এই দৃষ্টিনন্দন বাগানগুলো দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন অসংখ্য দর্শনার্থী। পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা এসব মানুষ ফুলের সঙ্গে ছবি তুলে সময় কাটাচ্ছেন। দর্শনার্থীদের মতে, এই বাগানগুলো যেমন প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়াচ্ছে, তেমনি মানুষের যান্ত্রিক জীবনে কিছুটা প্রশান্তিও বয়ে আনছে।

স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে এই আবাদ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এতে কৃষকের খরচ খুবই কম, কিন্তু লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি।

পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুরে-ই-আলম বলেন, “সূর্যমুখী একটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং স্বাস্থ্যসম্মত ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে আমরা কৃষকদের নিয়মিত উৎসাহিত করছি। তবে এই অঞ্চলে তেল নিষ্কাশন যন্ত্রের কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করা সম্ভব হলে আগামীতে সূর্যমুখী চাষে এই এলাকায় বিপ্লব ঘটানো সম্ভব হবে।”

ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে সূর্যমুখী চাষ ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্টের

পাকুন্দিয়ায় হলুদের সমারোহ: কম খরচে সূর্যমুখী চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা

আপডেট সময় : ১০:১১:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার দিগন্তজোড়া মাঠজুড়ে এখন কেবলই হলুদের আভা। ভোরের সূর্যের দিকে মুখ করে থাকা সারি সারি সূর্যমুখী ফুলের এই নান্দনিক দৃশ্য শুধু পথচারীদের চোখই জুড়াচ্ছে না, বরং স্থানীয় কৃষকদের মনেও জোগাচ্ছে নতুন আশার সঞ্চার। কম খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় এ অঞ্চলে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সূর্যমুখী চাষ। ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এই দৃষ্টিনন্দন বাগানগুলো এখন বিনোদনপিপাসু ও প্রকৃতিপ্রেমীদের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পাকুন্দিয়ার বড়আজলদী ও চণ্ডিপাশাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের বীজ ও সারের পাশাপাশি নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। তেলের গুণাগুণ ও ভালো বাজারমূল্য থাকায় সাধারণ কৃষকরা এখন ধান বা অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

সরেজমিনে বড়আজলদী গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে ফুটে থাকা সূর্যমুখী ফুল এক অপূর্ব সৌন্দর্যের সৃষ্টি করেছে। এ গ্রামের কৃষক মজনু মিয়া এবারই প্রথম তার ৩৩ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। তিনি জানান, কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতায় তিনি এই আবাদ শুরু করেন। খুব সামান্য ব্যয়ে ভালো ফলনের আভাস পাওয়ায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। একই গ্রামের কৃষক হাদিউল ইসলামও তার দুই বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। তার ক্ষেতেও ফুলের সমারোহ দেখে তিনি লাভবান হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, এই দৃষ্টিনন্দন বাগানগুলো দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন অসংখ্য দর্শনার্থী। পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা এসব মানুষ ফুলের সঙ্গে ছবি তুলে সময় কাটাচ্ছেন। দর্শনার্থীদের মতে, এই বাগানগুলো যেমন প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়াচ্ছে, তেমনি মানুষের যান্ত্রিক জীবনে কিছুটা প্রশান্তিও বয়ে আনছে।

স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে এই আবাদ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এতে কৃষকের খরচ খুবই কম, কিন্তু লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি।

পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুরে-ই-আলম বলেন, “সূর্যমুখী একটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং স্বাস্থ্যসম্মত ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে আমরা কৃষকদের নিয়মিত উৎসাহিত করছি। তবে এই অঞ্চলে তেল নিষ্কাশন যন্ত্রের কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করা সম্ভব হলে আগামীতে সূর্যমুখী চাষে এই এলাকায় বিপ্লব ঘটানো সম্ভব হবে।”

ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে সূর্যমুখী চাষ ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।