ঢাকা ০২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের পরিচ্ছন্নতা অভিযান: মিরপুরের রাস্তায় ব্যতিক্রমী সূচনা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা-১৫ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, শপথ গ্রহণের পরদিন এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা করেছেন। বুধবার ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে মিরপুরের মনিপুরে বাইতুর নুর মসজিদের সামনে তিনি নিজে হাতে ঝাড়ু হাতে তুলে নিয়ে রাস্তা পরিষ্কারের কাজে অংশ নেন। তাঁর এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুধু রাস্তাঘাটই নয়, বরং সমাজের সকল প্রকার ‘আবর্জনা’ দূর করার এক প্রতীকী বার্তা বহন করে।

এ সময় তাঁর সাথে স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় নেতাকর্মীরাও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে রাস্তা ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করার পর, ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমরা সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা রাখা এবং সংস্কারের মাধ্যমে সমাজের সকল স্তরের ‘ময়লা’ দূর করা। শুধু রাস্তা-ড্রেনের আবর্জনাই নয়, আমরা মানুষের মনের ভেতরের আবর্জনাগুলোও পরিষ্কার করতে চাই।”

নির্বাচিত হলে প্রথম দিনের কাজ রাস্তা পরিষ্কারের মাধ্যমে শুরু করার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তা পূরণ করতে পেরে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। এই অভিযানের মাধ্যমে তিনি এলাকাবাসী ও দেশবাসীকে একটি পরিচ্ছন্ন সমাজ গড়ার বার্তা দিতে চান, যেখানে পরিবেশের পাশাপাশি মানুষের মনও সুন্দর থাকবে। তাঁর মতে, একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ মানুষের মনোজগতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা সমাজকে আরও সহনশীল ও দায়িত্বশীল করে তোলে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের ছোট্ট দেশ, প্রত্যেকে যদি নিজ নিজ আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখি, তাহলে পুরো দেশই পরিষ্কার হয়ে যাবে।”

ডা. শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন যে, এটি কোনো লোক দেখানো কাজ নয়। তাঁর দলের প্রতিটি ইউনিট ফজরের নামাজের পর অন্তত আধঘন্টা ধরে এই পরিচ্ছন্নতার কাজ করবে। তিনি বলেন, “সরকারের অনুদান পাই বা না পাই, এই এলাকাকে একটি মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তবে, সরকারের কাছে ন্যায্য পাওনাটুকুও আমরা আশা করি।”

তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদেরও অভিনন্দন জানান এবং সকলের সহযোগিতা নিয়ে একটি উন্নত মিরপুর-কাফরুল গড়ার অঙ্গীকার করেন। তাঁর মূল লক্ষ্য হলো জনগণের মনে শান্তি ফিরিয়ে আনা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শঙ্কা দূর করে একটি ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা। তিনি দলমত ও ধর্মের উর্ধ্বে উঠে এই কাজটি করতে চান এবং সারাদেশের সহকর্মীদের প্রতিও একই বার্তা পৌঁছে দেন।

তিনি আরও জানান, ঢাকায় থাকলে তিনি প্রতিদিন এখানে এসে রাস্তা ঝাড়ু দেবেন এবং ঢাকার বাইরে যেখানেই যাবেন, সেখানেই সহকর্মীদের সাথে নিয়ে একই ধরণের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেবেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে, বিএনপির সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি এক ধরণের অপমান। তিনি মনে করেন, যদি কেউ শপথ না নেন, তবে তারেক রহমানের যেমন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ থাকত না, তেমনি তিনিও বিরোধীদলীয় নেতা হতে পারতেন না।

এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরে চাকরির সুযোগ, আবেদন করা যাবে এসএসসি পাসে

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের পরিচ্ছন্নতা অভিযান: মিরপুরের রাস্তায় ব্যতিক্রমী সূচনা

আপডেট সময় : ০৯:৪৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা-১৫ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, শপথ গ্রহণের পরদিন এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা করেছেন। বুধবার ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে মিরপুরের মনিপুরে বাইতুর নুর মসজিদের সামনে তিনি নিজে হাতে ঝাড়ু হাতে তুলে নিয়ে রাস্তা পরিষ্কারের কাজে অংশ নেন। তাঁর এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুধু রাস্তাঘাটই নয়, বরং সমাজের সকল প্রকার ‘আবর্জনা’ দূর করার এক প্রতীকী বার্তা বহন করে।

এ সময় তাঁর সাথে স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় নেতাকর্মীরাও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে রাস্তা ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করার পর, ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমরা সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা রাখা এবং সংস্কারের মাধ্যমে সমাজের সকল স্তরের ‘ময়লা’ দূর করা। শুধু রাস্তা-ড্রেনের আবর্জনাই নয়, আমরা মানুষের মনের ভেতরের আবর্জনাগুলোও পরিষ্কার করতে চাই।”

নির্বাচিত হলে প্রথম দিনের কাজ রাস্তা পরিষ্কারের মাধ্যমে শুরু করার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তা পূরণ করতে পেরে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। এই অভিযানের মাধ্যমে তিনি এলাকাবাসী ও দেশবাসীকে একটি পরিচ্ছন্ন সমাজ গড়ার বার্তা দিতে চান, যেখানে পরিবেশের পাশাপাশি মানুষের মনও সুন্দর থাকবে। তাঁর মতে, একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ মানুষের মনোজগতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা সমাজকে আরও সহনশীল ও দায়িত্বশীল করে তোলে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের ছোট্ট দেশ, প্রত্যেকে যদি নিজ নিজ আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখি, তাহলে পুরো দেশই পরিষ্কার হয়ে যাবে।”

ডা. শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন যে, এটি কোনো লোক দেখানো কাজ নয়। তাঁর দলের প্রতিটি ইউনিট ফজরের নামাজের পর অন্তত আধঘন্টা ধরে এই পরিচ্ছন্নতার কাজ করবে। তিনি বলেন, “সরকারের অনুদান পাই বা না পাই, এই এলাকাকে একটি মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তবে, সরকারের কাছে ন্যায্য পাওনাটুকুও আমরা আশা করি।”

তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদেরও অভিনন্দন জানান এবং সকলের সহযোগিতা নিয়ে একটি উন্নত মিরপুর-কাফরুল গড়ার অঙ্গীকার করেন। তাঁর মূল লক্ষ্য হলো জনগণের মনে শান্তি ফিরিয়ে আনা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শঙ্কা দূর করে একটি ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা। তিনি দলমত ও ধর্মের উর্ধ্বে উঠে এই কাজটি করতে চান এবং সারাদেশের সহকর্মীদের প্রতিও একই বার্তা পৌঁছে দেন।

তিনি আরও জানান, ঢাকায় থাকলে তিনি প্রতিদিন এখানে এসে রাস্তা ঝাড়ু দেবেন এবং ঢাকার বাইরে যেখানেই যাবেন, সেখানেই সহকর্মীদের সাথে নিয়ে একই ধরণের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেবেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে, বিএনপির সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি এক ধরণের অপমান। তিনি মনে করেন, যদি কেউ শপথ না নেন, তবে তারেক রহমানের যেমন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ থাকত না, তেমনি তিনিও বিরোধীদলীয় নেতা হতে পারতেন না।

এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।