ঢাকা ০২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

গণতন্ত্রের নবযাত্রা: একাদশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৩:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করে বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় উন্মুক্ত আকাশের নিচে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি ও তার নবগঠিত মন্ত্রিসভা দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জো, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লা এবং পাকিস্তানের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন মন্ত্রী আহসান ইকবাল চৌধুরীসহ ১৩টি দেশের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণই হবে তার সরকারের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে নতুন সরকারের সাফল্য কামনা করেন। তিনি বলেন, প্রতিটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে যেন গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো ও আহতদের স্বপ্ন প্রতিফলিত হয়।

বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটে তারেক রহমান অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে পুরো সংসদ এলাকা এক উৎসবমুখর পরিবেশে রূপ নেয়। তবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েও প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটসঙ্গী এনসিপি এই শপথ অনুষ্ঠান বর্জন করেছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধীনে অতিরিক্ত শপথ নেওয়ার বিধান নিয়ে মতভেদের কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত নেয়।

দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসন শেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় ফিরল বিএনপি। প্রায় দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া দলটির জন্য এটি ষষ্ঠবার সরকার গঠন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ এক অনন্য নজির, কারণ তার পিতা জিয়াউর রহমান ও মাতা খালেদা জিয়া উভয়েই দেশের শীর্ষ পদে আসীন ছিলেন।

নতুন মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বণ্টন:
নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয় দেখা গেছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এছাড়া সালাহউদ্দিন আহমদকে স্বরাষ্ট্র, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। টেকনোক্র্যাট কোটায় ড. খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি অর্থ, পরিকল্পনা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে দেওয়া হয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। এছাড়া শামা ওবায়েদ পররাষ্ট্র এবং ইশরাক হোসেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।

শপথ অনুষ্ঠান শেষে নবনিযুক্ত মন্ত্রীরা দেশের অর্থনীতি সচল করতে এবং দুর্নীতি রোধে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। বিশেষ করে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তারা। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই নির্বাচিত সরকারের হাত ধরে দেশে স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা ফিরবে—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরে চাকরির সুযোগ, আবেদন করা যাবে এসএসসি পাসে

গণতন্ত্রের নবযাত্রা: একাদশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান

আপডেট সময় : ০৮:৩৩:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করে বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় উন্মুক্ত আকাশের নিচে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি ও তার নবগঠিত মন্ত্রিসভা দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জো, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লা এবং পাকিস্তানের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন মন্ত্রী আহসান ইকবাল চৌধুরীসহ ১৩টি দেশের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণই হবে তার সরকারের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে নতুন সরকারের সাফল্য কামনা করেন। তিনি বলেন, প্রতিটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে যেন গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো ও আহতদের স্বপ্ন প্রতিফলিত হয়।

বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটে তারেক রহমান অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে পুরো সংসদ এলাকা এক উৎসবমুখর পরিবেশে রূপ নেয়। তবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েও প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটসঙ্গী এনসিপি এই শপথ অনুষ্ঠান বর্জন করেছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধীনে অতিরিক্ত শপথ নেওয়ার বিধান নিয়ে মতভেদের কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত নেয়।

দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসন শেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় ফিরল বিএনপি। প্রায় দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া দলটির জন্য এটি ষষ্ঠবার সরকার গঠন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ এক অনন্য নজির, কারণ তার পিতা জিয়াউর রহমান ও মাতা খালেদা জিয়া উভয়েই দেশের শীর্ষ পদে আসীন ছিলেন।

নতুন মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বণ্টন:
নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয় দেখা গেছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এছাড়া সালাহউদ্দিন আহমদকে স্বরাষ্ট্র, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। টেকনোক্র্যাট কোটায় ড. খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি অর্থ, পরিকল্পনা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে দেওয়া হয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। এছাড়া শামা ওবায়েদ পররাষ্ট্র এবং ইশরাক হোসেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।

শপথ অনুষ্ঠান শেষে নবনিযুক্ত মন্ত্রীরা দেশের অর্থনীতি সচল করতে এবং দুর্নীতি রোধে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। বিশেষ করে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তারা। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই নির্বাচিত সরকারের হাত ধরে দেশে স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা ফিরবে—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।