নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে বিভাগীয় শহর খুলনায়। মঙ্গলবার সকালে নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) উদ্যোগে বিশাল ডিজিটাল ডিসপ্লে স্ক্রিনে এই শপথ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারের আয়োজন করা হয়। এদিন পর্যায়ক্রমে বিএনপি এবং জামায়াত-এনসিপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ প্রদর্শিত হয়।
কেসিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশিদ জানান, সাধারণ মানুষের আগ্রহের কথা বিবেচনা করে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল স্ক্রিন স্থাপনের পাশাপাশি আগত দর্শকদের জন্য শামিয়ানা ও দুই শতাধিক চেয়ারের সুব্যবস্থা করা হয়। কেসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও বিপুল সংখ্যক পথচারী ও সাধারণ নগরবাসী গভীর আগ্রহ নিয়ে এই অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। বিকেলে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানও একইভাবে সরাসরি সম্প্রচার করার কথা জানান তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ হাদিস পার্কে জড়ো হওয়া মানুষের মধ্যে ছিল নতুন সংসদকে ঘিরে নানা প্রত্যাশা ও শঙ্কা। প্রাতঃভ্রমণে আসা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন বাড়ি না ফিরে সেখানেই অবস্থান নেন শপথ দেখার জন্য। তিনি বলেন, “এই নতুন সংসদের ওপর জাতির অনেক প্রত্যাশা। তারা দেশের মানুষের কল্যাণে সফল হোক, এটাই আমাদের একমাত্র চাওয়া।”
অন্যদিকে, জীবনযুদ্ধের লড়াকু সৈনিক রিকশাচালক আজিজুলের চোখেমুখেও ছিল কৌতূহল। সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে ভোট দিয়ে গতকালই খুলনায় ফেরা আজিজুল রিকশার সিটে বসেই মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন শপথের বাক্যগুলো। এর আগে কখনো শপথ অনুষ্ঠান দেখার সুযোগ না হওয়া এই শ্রমজীবী মানুষটি তার সহজ-সরল ভাষায় বলেন, “শপথে যা যা বলা হলো, সংসদ সদস্যরা যদি তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন, তবেই দেশের মঙ্গল হবে। কিন্তু তারা যদি শপথ ভুলে গিয়ে বিগত সরকারের মতো লুটপাটে মেতে ওঠেন, তবে দেশের জন্য আবারও দুর্দিন নেমে আসবে।”
আজিজুল জানান, তার আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিলেও জয়ী হয়েছে দাঁড়িপাল্লা। তবে এই রাজনৈতিক মেরুকরণ তাকে বিচলিত করে না। তার মতে, শেখ হাসিনা পরবর্তী এই বাংলাদেশে যারা জয়ী হয়েছেন এবং যারা পরাজিত হয়েছেন—সবাই মিলেমিশে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ পরিচালনা করবেন, এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।
রিপোর্টারের নাম 





















