বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন আফরোজা খানম রিতা। মঙ্গলবার শপথ নেওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি দুর্নীতি ও অনিয়মমুক্ত একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “আমরা সবাই মিলে এমন একটি দেশ গড়তে চাই যেখানে কোনো অনিয়ম থাকবে না।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৩ (সদর ও সাটুরিয়া) আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হন আফরোজা খানম রিতা। স্বাধীনতার পর এই আসন থেকে তিনিই প্রথম নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তার এই সাফল্যে এবং মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তিতে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দ বিরাজ করছে।
নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যায়, ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে তিনি বিজয়ী হন। বর্তমানে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আফরোজা খানম রিতার রাজনীতিতে হাতেখড়ি তার বাবা প্রয়াত বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশিদ খান মুন্নুর হাত ধরে। তার বাবা মানিকগঞ্জ-২ ও মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাবার প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়কারী হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে রিতার আনুষ্ঠানিক পদচারণা শুরু হয়।
পরবর্তীতে তিনি মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন এবং দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ২০১০ সালে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ২০১৩ সালে জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পান তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমা ও তৃণমূলের সাথে নিবিড় সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় এবার তিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন।
রিপোর্টারের নাম 
























