ঢাকা ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

সীতাকুণ্ডে সিসি ক্যামেরার আড়ালে মাদক কারবার: মা-বাবাসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী হৃদয় গ্রেফতার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অভিনব কায়দায় সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে একই পরিবারের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের কলাবাড়িয়া আদর্শ গ্রামে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—এলাকার চিহ্নিত শীর্ষ মাদক কারবারি মেহেদী হাসান হৃদয় (২৪), তার বাবা বাহার উদ্দিন (৫৫) এবং মা বিবি মরিয়ম প্রকাশ কোহিনূর আক্তার (৪৫)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের একটি চৌকস দল কলাবাড়িয়া আদর্শ গ্রামে অভিযান চালায়। এসময় প্রথমে হৃদয়কে আটক করা হয় এবং তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ৫২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে মাদক ব্যবসায় সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগে তার বাবা ও মাকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তে দেখা গেছে, আইনশৃঙ্ক্ষলা রক্ষাকারী বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং নিজেদের নিরাপদ রাখতে বাড়ির চারপাশে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে দীর্ঘদিন ধরে তারা এই অবৈধ কারবার চালিয়ে আসছিল।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত হৃদয় একজন দুর্ধর্ষ অপরাধী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পুরো পরিবারটি অত্যন্ত সুকৌশলে এলাকায় মাদকের জাল বিস্তার করেছিল। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এলাকায় মাদক নির্মূলে পুলিশের এই জিরো টলারেন্স নীতি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, শীর্ষ মাদক কারবারি হৃদয় ও তার পরিবারের সদস্যদের গ্রেফতারের খবরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। কলাবাড়িয়া আদর্শ গ্রামে অবস্থিত মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী এলাকায় এমন মাদক কারবার চলায় দীর্ঘ দিন ধরে অভিভাবকরা সন্তানদের নৈতিক অবক্ষয় নিয়ে আতঙ্কে ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, মাদকের প্রভাবে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। কয়েক মাস আগেও এলাকাবাসী মাদকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছিলেন। এর আগে হৃদয়ের সহযোগীরা ধরা পড়লেও জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই অপরাধে লিপ্ত হতো।

স্থানীয়রা আরও জানান, সীতাকুণ্ডকে একটি আধুনিক ও আদর্শ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএ-র যে ঘোষণা রয়েছে, তার প্রতিফলন দেখতে চান তারা। বারৈয়াঢালা ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি সুস্থ সমাজ গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্টের

সীতাকুণ্ডে সিসি ক্যামেরার আড়ালে মাদক কারবার: মা-বাবাসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী হৃদয় গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৬:২১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অভিনব কায়দায় সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে একই পরিবারের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের কলাবাড়িয়া আদর্শ গ্রামে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—এলাকার চিহ্নিত শীর্ষ মাদক কারবারি মেহেদী হাসান হৃদয় (২৪), তার বাবা বাহার উদ্দিন (৫৫) এবং মা বিবি মরিয়ম প্রকাশ কোহিনূর আক্তার (৪৫)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের একটি চৌকস দল কলাবাড়িয়া আদর্শ গ্রামে অভিযান চালায়। এসময় প্রথমে হৃদয়কে আটক করা হয় এবং তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ৫২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে মাদক ব্যবসায় সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগে তার বাবা ও মাকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তে দেখা গেছে, আইনশৃঙ্ক্ষলা রক্ষাকারী বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং নিজেদের নিরাপদ রাখতে বাড়ির চারপাশে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে দীর্ঘদিন ধরে তারা এই অবৈধ কারবার চালিয়ে আসছিল।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত হৃদয় একজন দুর্ধর্ষ অপরাধী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পুরো পরিবারটি অত্যন্ত সুকৌশলে এলাকায় মাদকের জাল বিস্তার করেছিল। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এলাকায় মাদক নির্মূলে পুলিশের এই জিরো টলারেন্স নীতি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, শীর্ষ মাদক কারবারি হৃদয় ও তার পরিবারের সদস্যদের গ্রেফতারের খবরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। কলাবাড়িয়া আদর্শ গ্রামে অবস্থিত মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী এলাকায় এমন মাদক কারবার চলায় দীর্ঘ দিন ধরে অভিভাবকরা সন্তানদের নৈতিক অবক্ষয় নিয়ে আতঙ্কে ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, মাদকের প্রভাবে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। কয়েক মাস আগেও এলাকাবাসী মাদকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছিলেন। এর আগে হৃদয়ের সহযোগীরা ধরা পড়লেও জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই অপরাধে লিপ্ত হতো।

স্থানীয়রা আরও জানান, সীতাকুণ্ডকে একটি আধুনিক ও আদর্শ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএ-র যে ঘোষণা রয়েছে, তার প্রতিফলন দেখতে চান তারা। বারৈয়াঢালা ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি সুস্থ সমাজ গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।