কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও রাজনীতির মাঠে বড় এক ‘চমক’ হয়ে এলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মো. আমিনুর রশিদ ইয়াছিন। বর্তমান সরকারের কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ—এই তিন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাকে। ত্যাগের বিনিময়ে এমন বড় প্রাপ্তিকে তার রাজনৈতিক জীবনের শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি এবং কুমিল্লার মানুষের জন্য বড় উপহার হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে কুমিল্লা-৯ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন হাজী ইয়াছিন। পরবর্তীতে ২০০৮ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে কুমিল্লা সদর আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তিনি জয়ী হতে পারেননি। তবে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে হামলা-মামলার শিকার নেতাকর্মীদের পাশে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে কুমিল্লার রাজনীতিতে নিজের অবস্থান সুসংহত করেন তিনি। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে তাকে ঘিরেই ছিল সমর্থকদের মূল প্রত্যাশা। তবে দল থেকে অপর উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হলে নেতাকর্মীদের চাপে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ইয়াছিন।
রাজনৈতিক এই সংকট নিরসনে গত ১৯ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন তিনি। নেতার নির্দেশে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়ে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার ছয়টি আসনের নির্বাচন পরিচালনার সমন্বয়কের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। তার দক্ষ সাংগঠনিক তৎপরতায় ওই ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই জয় পায় বিএনপি। মূলত দলের প্রতি এই আনুগত্য এবং নির্বাচনী সাফল্যের পুরস্কার হিসেবেই তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ফোন পাওয়ার পর থেকেই কুমিল্লাজুড়ে আনন্দের বন্যা বইতে শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিনন্দনের জোয়ারের পাশাপাশি রাজপথে নেমে আসেন সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীরা। বিকেলে নগরীর মোড়ে মোড়ে মিষ্টি বিতরণ এবং সন্ধ্যায় কান্দিরপাড় টাউন হল মাঠে আতশবাজি ফুটিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন সমর্থকরা। সমর্থকদের মতে, মনোনয়ন না পাওয়ায় যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছিল, তিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে সেই ক্ষত এখন আনন্দে রূপ নিয়েছে।
এক প্রতিক্রিয়ায় নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ যে তিনি আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। এই দায়িত্ব আমার একার নয়, পুরো কুমিল্লাবাসীর। কৃষি, খাদ্য ও মৎস্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে আমি এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই যাতে দেশের মানুষ সরাসরি উপকৃত হয়। আমি যেন সততা ও নিষ্ঠার সাথে এই আমানত রক্ষা করতে পারি, সেজন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।”
কুমিল্লার সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই আলোচনা—ত্যাগী নেতাকে সঠিক সময়ে সঠিক মূল্যায়ন করে বড় চমক দেখিয়েছে বর্তমান সরকার। আমিনুর রশিদ ইয়াছিনের হাত ধরে কুমিল্লার সামগ্রিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়রা।
রিপোর্টারের নাম 
























