ঢাকা ০৮:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: বগুড়ার মীর শাহে আলম নতুন মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৬:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের আক্ষেপ অবশেষে ঘুচেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জেলার সন্তান মীর শাহে আলম গতকাল মঙ্গলবার নবগঠিত মন্ত্রিসভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। তাঁর এই নিয়োগে জেলায় আনন্দের বন্যা বইছে এবং উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত মীর শাহে আলম তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থীকে প্রায় ৫২ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি এক লাখ ৪৫ হাজার ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, যেখানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছিলেন ৯৩ হাজার ভোট। স্থানীয় রাজনীতিতে তৃণমূল পর্যায়ে এক নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক হিসেবে পরিচিত মীর শাহে আলম। তিনি শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ সালে তিনি শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও জনপ্রিয়তার প্রমাণ বহন করে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ আসনে প্রথমে বিএনপি জোটের পক্ষ থেকে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নাকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও পরবর্তীতে মীর শাহে আলমকে চূড়ান্ত প্রার্থী করা হয়। তাঁর বিজয়ে দলীয় নেতাদের ধারাবাহিক প্রচার-প্রচারণা এবং তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বগুড়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে মন্ত্রিপরিষদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ বরাবরই সীমিত। সর্বশেষ ১৯৯১ সালে বগুড়া সদর আসন থেকে নির্বাচিত অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান অর্থ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর আবারও এই জেলার একজন প্রতিনিধি মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনের সবকটিতেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। তাঁদের মধ্যে মীর শাহে আলম ছাড়াও বগুড়া-৩ আসনের আবদুল মহিত তালুকদার এবং বগুড়া-৭ আসনের মোরশেদ মিল্টনও পূর্ববর্তী সময়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই তিনজনই স্থানীয় সরকার পর্যায়ে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন।

নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানান, “সংসদে গিয়ে দল কর্তৃক ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি বগুড়াকে একটি মডেল উন্নয়ন জেলা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করব।” তাঁর এই প্রতিশ্রুতি জেলার উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্টের

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: বগুড়ার মীর শাহে আলম নতুন মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ

আপডেট সময় : ০৬:০৬:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের আক্ষেপ অবশেষে ঘুচেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জেলার সন্তান মীর শাহে আলম গতকাল মঙ্গলবার নবগঠিত মন্ত্রিসভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। তাঁর এই নিয়োগে জেলায় আনন্দের বন্যা বইছে এবং উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত মীর শাহে আলম তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থীকে প্রায় ৫২ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি এক লাখ ৪৫ হাজার ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, যেখানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছিলেন ৯৩ হাজার ভোট। স্থানীয় রাজনীতিতে তৃণমূল পর্যায়ে এক নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক হিসেবে পরিচিত মীর শাহে আলম। তিনি শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ সালে তিনি শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও জনপ্রিয়তার প্রমাণ বহন করে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ আসনে প্রথমে বিএনপি জোটের পক্ষ থেকে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নাকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও পরবর্তীতে মীর শাহে আলমকে চূড়ান্ত প্রার্থী করা হয়। তাঁর বিজয়ে দলীয় নেতাদের ধারাবাহিক প্রচার-প্রচারণা এবং তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বগুড়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে মন্ত্রিপরিষদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ বরাবরই সীমিত। সর্বশেষ ১৯৯১ সালে বগুড়া সদর আসন থেকে নির্বাচিত অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান অর্থ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর আবারও এই জেলার একজন প্রতিনিধি মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনের সবকটিতেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। তাঁদের মধ্যে মীর শাহে আলম ছাড়াও বগুড়া-৩ আসনের আবদুল মহিত তালুকদার এবং বগুড়া-৭ আসনের মোরশেদ মিল্টনও পূর্ববর্তী সময়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই তিনজনই স্থানীয় সরকার পর্যায়ে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন।

নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানান, “সংসদে গিয়ে দল কর্তৃক ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি বগুড়াকে একটি মডেল উন্নয়ন জেলা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করব।” তাঁর এই প্রতিশ্রুতি জেলার উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।