ঢাকা ০৮:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

নির্বাচনী বিদ্বেষের বলি: অগ্নিদগ্ধ জামায়াত সমর্থকের মৃত্যু, স্বজনদের অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০০:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

লক্ষ্মীপুরে এক মৎস্য খামারে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্বাস উদ্দিন (৫৫) নামে এক জামায়াত সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পাঁচ দিন পর মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। গত বুধবার রাতে সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের জিতু অ্যাগ্রো মৎস্য খামারে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় আনা হয়েছিল।

নিহত আব্বাস উদ্দিন চররমনী মোহন এলাকার বাসিন্দা এবং জিতু অ্যাগ্রো মৎস্য খামারের মালিক ছিলেন। তার বড় ছেলে এলাহি প্রিন্সের দাবি অনুযায়ী, আব্বাস উদ্দিন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তিনি আরও জানান, তার মা সুলতানা রাজিয়া লাকি লক্ষ্মীপুর পৌর ৬ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সভাপতি।

এলাহি প্রিন্স অভিযোগ করেন, ভোটের আগে রাতে দুর্বৃত্তরা খামারের ভেতরের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় পরিবারের অন্য সদস্যরা বেরিয়ে আসতে পারলেও আব্বাস উদ্দিন আটকে পড়েন। এতে তার হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।

শোকার্ত এলাহি প্রিন্স বলেন, “আমার বাবা মারা যাননি, শহীদ হয়েছেন। তিনি জামায়াত করেন এটাই তার অপরাধ ছিল। তাকে হত্যা করা হয়েছে।”

অন্যদিকে, লক্ষ্মীপুর শহর জামায়াতের আমির আবুল ফারাহ নিশান জানিয়েছেন, ঘটনাটি নির্বাচনের আগের দিন ঘটেছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে নিহত আব্বাস উদ্দিনের ছেলে প্রিন্সও নির্বাচনী প্রচারণায় জামায়াতের সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন এবং আব্বাস উদ্দিনও ‘দাঁড়িপাল্লার’ (জামায়াতের প্রতীক) সমর্থনে ভোট করেছেন।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্টের

নির্বাচনী বিদ্বেষের বলি: অগ্নিদগ্ধ জামায়াত সমর্থকের মৃত্যু, স্বজনদের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:০০:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

লক্ষ্মীপুরে এক মৎস্য খামারে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্বাস উদ্দিন (৫৫) নামে এক জামায়াত সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পাঁচ দিন পর মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। গত বুধবার রাতে সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের জিতু অ্যাগ্রো মৎস্য খামারে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় আনা হয়েছিল।

নিহত আব্বাস উদ্দিন চররমনী মোহন এলাকার বাসিন্দা এবং জিতু অ্যাগ্রো মৎস্য খামারের মালিক ছিলেন। তার বড় ছেলে এলাহি প্রিন্সের দাবি অনুযায়ী, আব্বাস উদ্দিন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তিনি আরও জানান, তার মা সুলতানা রাজিয়া লাকি লক্ষ্মীপুর পৌর ৬ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সভাপতি।

এলাহি প্রিন্স অভিযোগ করেন, ভোটের আগে রাতে দুর্বৃত্তরা খামারের ভেতরের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় পরিবারের অন্য সদস্যরা বেরিয়ে আসতে পারলেও আব্বাস উদ্দিন আটকে পড়েন। এতে তার হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।

শোকার্ত এলাহি প্রিন্স বলেন, “আমার বাবা মারা যাননি, শহীদ হয়েছেন। তিনি জামায়াত করেন এটাই তার অপরাধ ছিল। তাকে হত্যা করা হয়েছে।”

অন্যদিকে, লক্ষ্মীপুর শহর জামায়াতের আমির আবুল ফারাহ নিশান জানিয়েছেন, ঘটনাটি নির্বাচনের আগের দিন ঘটেছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে নিহত আব্বাস উদ্দিনের ছেলে প্রিন্সও নির্বাচনী প্রচারণায় জামায়াতের সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন এবং আব্বাস উদ্দিনও ‘দাঁড়িপাল্লার’ (জামায়াতের প্রতীক) সমর্থনে ভোট করেছেন।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।