কুমিল্লার হোমনায় এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঘুমন্ত অবস্থায় এক প্রবাসীর স্ত্রী এবং তার দুই শিশু সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার ঘারমোড়া ইউনিয়নের উত্তর মনিপুর গ্রামে এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
নিহতরা হলেন সৌদি প্রবাসী জহিরুল ইসলামের স্ত্রী পাপিয়া আক্তার সুখী (৩২), তার চার বছরের ছেলে মো. হোসাইন এবং জহিরুলের ভাই প্রবাসী আব্দুস সাত্তারের সাত বছরের ছেলে জুবায়েদ। তারা প্রত্যেকেই জহিরুল ইসলামের বাড়িতে একসাথে ঘুমিয়ে ছিলেন।
নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, কে বা কারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা তারা বুঝতে পারছেন না। তাদের কারো সঙ্গেই কোনো ধরনের শত্রুতা ছিল না বা কোনো পারিবারিক কলহও ছিল না বলে তারা দাবি করেছেন।
নিহত জুবায়েদের মা লিপি আক্তার জানান, ঘটনার রাতে তার সাত বছরের ছেলে জুবায়েদ তার বড় চাচি পাপিয়ার সাথে ঘুমানোর বায়না ধরে। সেই অনুযায়ী, রাতের খাবার শেষে সেও পাপিয়ার ঘরে ঘুমাতে যায়। সকালে অনেক বেলা হয়ে যাওয়ার পরও জুবায়েদের সাড়া না পেয়ে তাকে ডাকতে গেলে এই ভয়াবহ দৃশ্য চোখে পড়ে। প্রথমে তিনি তার বড় ছেলে জুনাইদকে জুবায়েদকে ডাকতে পাঠান। জুনাইদ ঘরে ঢুকে জানায় যে জুবায়েদ কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে। পরে লিপি আক্তার নিজে ঘরে ঢুকে প্রথমে তার জা (পাপিয়ার) ছেলের গলাকাটা লাশ দেখতে পান। এরপর একে একে অন্য দুটি কক্ষ থেকে তিনি তার জা এবং নিজের সন্তানের গলাকাটা মৃতদেহ খুঁজে পান। ঘরের দরজার কাছে একটি ছুরি পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
লিপি আক্তার আরও জানান, তাদের কারো সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা বা পারিবারিক কোনো ঝামেলা ছিল না। তার জা পাপিয়া আক্তার একজন ভালো মানুষ ছিলেন এবং কারো সঙ্গে তার কোনো অনৈতিক সম্পর্কও ছিল না। এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে।
রিপোর্টারের নাম 





















