নবগঠিত মন্ত্রিসভায় বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়ে মানিকগঞ্জ-৩ (সদর ও সাটুরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আফরোজা খানম রিতা প্রথম নারী সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। তাঁর এই মন্ত্রী হওয়াকে কেন্দ্র করে মানিকগঞ্জজুড়ে বইছে আনন্দের বন্যা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের পশ্চিম সেওতা এলাকা থেকে এক বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল বের হয়, যা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এই মিছিলে কয়েকশ নারী-পুরুষ দলবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ করে তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন আফরোজা খানম রিতা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তাঁকে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানোর পর থেকেই মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যায়।
মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান আফরোজা খানম বর্তমানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেন। তাঁর এই রাজনৈতিক যাত্রা তাঁর প্রয়াত বাবা, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও চারবারের সংসদ সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশিদ খান মুন্নুর হাত ধরেই শুরু হয়েছিল।
বাবা হারুনার রশিদ খান মুন্নু মানিকগঞ্জ-২ ও ৩ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বাবার রাজনৈতিক জীবনের পথ ধরে আফরোজা খানম রিতা ২০০১ সালে নির্বাচনে তাঁর বাবার প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে তিনি জেলা ও রাজধানী ঢাকায় দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ (হরিরামপুর ও সিঙ্গাইর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০১০ সালে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরের বছর ২০১৩ সালে জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে তৃণমূলে তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পায়।
বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য আ ফ ম নূরতাজ আলম বাহার বলেন, “আফরোজা খানম রিতার মন্ত্রী হওয়ার খবরে শুধু দলের নেতা-কর্মীরাই নন, বরং পুরো জেলাবাসীই আজ আনন্দিত ও গর্বিত। তাঁর এই অর্জন আমাদের সকলের জন্য এক বিরাট গৌরবের বিষয়।”
রিপোর্টারের নাম 





















