প্রকৃতির নিজস্ব শীতল পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে এবং সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে বাটন মাশরুম উৎপাদনে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। প্রোটিনা রিসার্চ ফাউন্ডেশন এবং বাহারী এগ্রোটেকের যৌথ উদ্যোগে এই অত্যাধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা বীজ উৎপাদন থেকে শুরু করে কম্পোস্ট তৈরি এবং সবশেষে মাশরুম ফলন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিজস্ব সক্ষমতার প্রমাণ রেখেছে। এই উদ্ভাবন একদিকে যেমন আমদানি নির্ভরতা কমাবে, তেমনই দেশের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুরে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ নিজপাড়া গ্রামে নিজস্ব খামারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই যুগান্তকারী সাফল্যের কথা জানান প্রোটিনা রিসার্চ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাসুদা ইসলাম। তিনি জানান, দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা এবং গবেষণার ফলস্বরূপ তারা বাটন মাশরুমের বীজ উৎপাদনের জন্য একটি অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। এরপর কম্পোস্ট সার তৈরির প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে মানানসই করে ছোট পরিসরে বাটন মাশরুম চাষ শুরু করেন। এই পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জে পূর্ণ, যা সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয় এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড টেকনোলজি এন্ড নিউট্রিশন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে ওবায়দুল হক মাশরুমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তিনি জানান, প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা মাশরুমে প্রায় ২.৭৫ গ্রাম প্রোটিন, ২.৫ গ্রাম শর্করা এবং ০.৫ গ্রাম চর্বি বিদ্যমান। এছাড়াও, এতে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান। অধ্যাপক হক আরও উল্লেখ করেন যে, এই মাশরুম দৈনিক খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলে দেহের বৃদ্ধি, গঠন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি অ্যান্টি-ডায়াবেটিক, অ্যান্টি-ক্যান্সার, অ্যান্টি-হাইপারটেনশন এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণাবলিসম্পন্ন হওয়ায় স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এটি একটি অত্যন্ত কার্যকর খাদ্য উপাদান।
বাহারী এগ্রোটেকের পার্টনার প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান এই প্রকল্পের বাণিজ্যিক সম্ভাবনার দিকটি তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রতি বছর ভারত, থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ বাটন মাশরুম ও এর বীজ আমদানি করা হয়, যার আর্থিক মূল্য শত কোটি টাকারও বেশি। তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদিত এই মাশরুম কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটাতেই সক্ষম হবে না, বরং আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানির উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি করবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাহারী এগ্রোটেকের পার্টনার প্রকৌশলী মো. ফাহিম রহমান, গবেষক মো. সালাউদ্দিন, মো. মিম ইসলাম, মো. জিম ইসলাম এবং আকতার কবির কাননসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্ভাবন বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য শিল্পে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
—
রিপোর্টারের নাম 





















