ঢাকা ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে ক্রয়মূল্যে পণ্য বিক্রয়, প্রশংসিত শাহআলম

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৭:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

## রমজানেও সহনশীল দামে পণ্য বিক্রি: শাহআলমের মহতী উদ্যোগ প্রশংসিত

চাঁদপুর: পবিত্র রমজান মাস মুসলিম বিশ্বে সংযম ও ত্যাগের বার্তা নিয়ে আসে। এই সময়ে পণ্যমূল্য হ্রাস করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এক মহৎ দৃষ্টান্ত। যেখানে দেশের অধিকাংশ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে মুনাফা লুটে নেয়, সেখানে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার মধ্য চরকুমিরা গ্রামের মুদি ব্যবসায়ী মো. শাহআলম। তিনি পবিত্র রমজান মাসে লাভ ছাড়াই ক্রয়মূল্যে ৮টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করে অসহায়, দিনমজুর, নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন।

অতীতের ধারাবাহিকতা, এবারও ক্রয়মূল্যে বিক্রি:

মো. শাহআলমের এই মহতী উদ্যোগ নতুন নয়। বিগত দুই বছর ধরে তিনি রমজান মাসে পণ্য বিক্রি করতেন সামান্য লাভে, মাত্র এক টাকা। কিন্তু এবার তিনি লাভকে সম্পূর্ণ বিসর্জন দিয়ে সরাসরি ক্রয়মূল্যে পণ্য বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার দোকানে ছোলা, খেসারির ডাল, বেসন, মুড়ি, চিঁড়া, চিনি, খেজুর এবং সয়াবিন তেল – এই ৮টি পণ্যের মূল্য তালিকা স্পষ্টভাবে সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূল্য তালিকা দেখে ক্রেতারা সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য কিনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন।

স্থানীয়দের প্রশংসা এবং ব্যবসায়িক নীতি:

শাহআলমের এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। রুহুল আমিন, কাউসার হোসাইন, জহিরুল ইসলামসহ একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, যেখানে রমজান মাস এলেই অন্য ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়, সেখানে শাহআলম রোজাদারদের কথা চিন্তা করে উদারতা দেখিয়েছেন। তারা আরও বলেন, শাহআলমের দোকানের পণ্যের দাম বাজারের অন্যান্য দোকানের তুলনায় অনেক কম।

নিজের ব্যবসায়িক নীতি সম্পর্কে শাহআলম জানান, বছরের অন্য ১১ মাসও তিনি কম লাভে ব্যবসা করার চেষ্টা করেন, যা তাকে অধিক সংখ্যক ক্রেতা পেতে সাহায্য করে। তিনি বলেন, “মুসলিম দেশগুলোতে রমজান মাসে পণ্যের দাম কমানো হয় যেন মানুষ ইবাদতে মনোযোগ দিতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দেয়। এলাকার গরিব, দুঃখী ও মেহনতি মানুষের কথা চিন্তা করেই আমার এই উদ্যোগ।”

ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষের সাধুবাদ:

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চাঁদপুরের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান শাহআলমের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “অন্যান্য ব্যবসায়ীদের শাহআলমের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখলে নিম্ন আয়ের ভোক্তাদের জন্য তা অনেক উপকারী হবে।”

শাহআলমের এই মহৎ উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, মুনাফার চেয়েও মানবিকতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা অনেক বড়। তার মতো আরও কিছু ব্যবসায়ী যদি এই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করেন, তবে রমজান মাসে সাধারণ মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্টের

পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে ক্রয়মূল্যে পণ্য বিক্রয়, প্রশংসিত শাহআলম

আপডেট সময় : ০৫:৫৭:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

## রমজানেও সহনশীল দামে পণ্য বিক্রি: শাহআলমের মহতী উদ্যোগ প্রশংসিত

চাঁদপুর: পবিত্র রমজান মাস মুসলিম বিশ্বে সংযম ও ত্যাগের বার্তা নিয়ে আসে। এই সময়ে পণ্যমূল্য হ্রাস করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এক মহৎ দৃষ্টান্ত। যেখানে দেশের অধিকাংশ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে মুনাফা লুটে নেয়, সেখানে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার মধ্য চরকুমিরা গ্রামের মুদি ব্যবসায়ী মো. শাহআলম। তিনি পবিত্র রমজান মাসে লাভ ছাড়াই ক্রয়মূল্যে ৮টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করে অসহায়, দিনমজুর, নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন।

অতীতের ধারাবাহিকতা, এবারও ক্রয়মূল্যে বিক্রি:

মো. শাহআলমের এই মহতী উদ্যোগ নতুন নয়। বিগত দুই বছর ধরে তিনি রমজান মাসে পণ্য বিক্রি করতেন সামান্য লাভে, মাত্র এক টাকা। কিন্তু এবার তিনি লাভকে সম্পূর্ণ বিসর্জন দিয়ে সরাসরি ক্রয়মূল্যে পণ্য বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার দোকানে ছোলা, খেসারির ডাল, বেসন, মুড়ি, চিঁড়া, চিনি, খেজুর এবং সয়াবিন তেল – এই ৮টি পণ্যের মূল্য তালিকা স্পষ্টভাবে সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূল্য তালিকা দেখে ক্রেতারা সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য কিনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন।

স্থানীয়দের প্রশংসা এবং ব্যবসায়িক নীতি:

শাহআলমের এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। রুহুল আমিন, কাউসার হোসাইন, জহিরুল ইসলামসহ একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, যেখানে রমজান মাস এলেই অন্য ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়, সেখানে শাহআলম রোজাদারদের কথা চিন্তা করে উদারতা দেখিয়েছেন। তারা আরও বলেন, শাহআলমের দোকানের পণ্যের দাম বাজারের অন্যান্য দোকানের তুলনায় অনেক কম।

নিজের ব্যবসায়িক নীতি সম্পর্কে শাহআলম জানান, বছরের অন্য ১১ মাসও তিনি কম লাভে ব্যবসা করার চেষ্টা করেন, যা তাকে অধিক সংখ্যক ক্রেতা পেতে সাহায্য করে। তিনি বলেন, “মুসলিম দেশগুলোতে রমজান মাসে পণ্যের দাম কমানো হয় যেন মানুষ ইবাদতে মনোযোগ দিতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দেয়। এলাকার গরিব, দুঃখী ও মেহনতি মানুষের কথা চিন্তা করেই আমার এই উদ্যোগ।”

ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষের সাধুবাদ:

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চাঁদপুরের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান শাহআলমের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “অন্যান্য ব্যবসায়ীদের শাহআলমের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখলে নিম্ন আয়ের ভোক্তাদের জন্য তা অনেক উপকারী হবে।”

শাহআলমের এই মহৎ উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, মুনাফার চেয়েও মানবিকতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা অনেক বড়। তার মতো আরও কিছু ব্যবসায়ী যদি এই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করেন, তবে রমজান মাসে সাধারণ মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে।