লন্ডনের বিখ্যাত ব্রিটিশ মিউজিয়ামে প্রাচীন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক একটি প্রদর্শনী থেকে ‘ফিলিস্তিন’ শব্দটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। একটি ইসরায়েলপন্থী সংগঠনের দাবির মুখে কর্তৃপক্ষ এই পরিবর্তন আনায় বিশ্বজুড়ে একাডেমিক মহল ও অধিকারকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনিদের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও সুদীর্ঘ ইতিহাসকে প্রান্তিক করার একটি ‘পদ্ধতিগত প্রচেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ‘ইউকে লয়ার্স ফর ইসরায়েল’ (ইউকেএলএফআই) নামক একটি সংগঠনের আপত্তির মধ্য দিয়ে। সংগঠনটি জাদুঘর কর্তৃপক্ষকে দেওয়া এক চিঠিতে দাবি করে, খ্রিস্টপূর্ব ১৭০০ থেকে ১৫০০ অব্দ পর্যন্ত সময়ের প্রদর্শনীতে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলকে ‘ফিলিস্তিন’ হিসেবে উল্লেখ করা এবং হিকসোস জনগোষ্ঠীকে ‘ফিলিস্তিনীয় বংশোদ্ভূত’ বলা ঐতিহাসিক দিক থেকে সঠিক নয়। তাদের দাবি ছিল, এ ধরনের নামকরণ ইসরায়েল ও জুদেয়া রাজ্যের প্রাচীন ইতিহাসকে আড়াল করে।
এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ তাদের প্রদর্শনীর লেবেলগুলোতে আমূল পরিবর্তন আনে। বর্তমানে সেখানে ‘ফিলিস্তিন’ শব্দের পরিবর্তে ‘কানান’ এবং ‘ফিলিস্তিনীয় বংশোদ্ভূত’ শব্দের স্থলে ‘কানানীয় বংশোদ্ভূত’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষের এমন নতিস্বীকারকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা। সমালোচকদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপে পড়ে ইতিহাসের প্রতিষ্ঠিত পরিভাষা বদলে ফেলা একটি বিপজ্জনক নজির। তারা মনে করছেন, এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জাতিগত সত্তা ও ঐতিহাসিক সত্যকে অস্বীকার করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা একটি আন্তর্জাতিক মানের জাদুঘরের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
রিপোর্টারের নাম 






















