ঢাকা ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

পশ্চিম তীরে জমি নিবন্ধনে ইসরাইলের বিতর্কিত অনুমোদন, আরব বিশ্বে তীব্র ক্ষোভ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৮:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

অধিকৃত পশ্চিম তীরে বিতর্কিত জমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে ইসরাইল সরকার। ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের পর এই প্রথম অঞ্চলটিতে এমন পদক্ষেপ নিল দেশটি। ইসরাইলের এই সিদ্ধান্তকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ‘বৃহৎ ভূমি দখল’ এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আরব বিশ্বের দেশগুলো।

ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, জমির মালিকানা স্বচ্ছভাবে নির্ধারণ এবং দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, প্যালেস্টাইন অথরিটি (পিএ) নিয়ন্ত্রিত এলাকায় তথাকথিত ‘বেআইনি’ জমি নিবন্ধনের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবেই এই পদক্ষেপ। তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

মিশর, কাতার ও জর্ডান এক যৌথ প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করার একটি বিপজ্জনক অপচেষ্টা। মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। কাতার সতর্ক করে বলেছে, পশ্চিম তীরের জমিকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে ঘোষণা করার এই অপকৌশল ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকারকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করবে।

প্যালেস্টাইন অথরিটি এই ঘটনাকে কার্যত পশ্চিম তীরকে ইসরাইলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সংযুক্ত করার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখছে। তারা একে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করে জরুরি আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণবিরোধী সংগঠন ‘পিস নাও’ এই সিদ্ধান্তকে একটি ‘মেগা ল্যান্ড গ্র্যাব’ বা বিশাল ভূমি দখল হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই নিবন্ধন কার্যক্রম মূলত ‘এরিয়া সি’ অঞ্চলে পরিচালিত হবে। পশ্চিম তীরের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা নিয়ে গঠিত এই অঞ্চলটি বর্তমানে ইসরাইলের পূর্ণ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফিলিস্তিনিরা এই অঞ্চলটিকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করলেও ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো এখানে পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় মরিয়া।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা ১৯৯০-এর দশকের অসলো চুক্তির তোয়াক্কা না করেই বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ অনুমোদন করে। এর ফলে এখন থেকে ইহুদিরা সরাসরি পশ্চিম তীরের জমি কিনতে পারবে এবং ফিলিস্তিনি নিয়ন্ত্রিত বেশ কিছু ধর্মীয় স্থানে ইসরাইলি প্রশাসন সরাসরি তত্ত্বাবধান করবে। বর্তমানে পূর্ব জেরুজালেম বাদে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন বসতিতে প্রায় ৫ লাখের বেশি ইসরাইলি বসবাস করছেন, যা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ। অন্যদিকে, একই অঞ্চলে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরও চরমে পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফটিকছড়িতে চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৪

পশ্চিম তীরে জমি নিবন্ধনে ইসরাইলের বিতর্কিত অনুমোদন, আরব বিশ্বে তীব্র ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৫:২৮:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অধিকৃত পশ্চিম তীরে বিতর্কিত জমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে ইসরাইল সরকার। ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের পর এই প্রথম অঞ্চলটিতে এমন পদক্ষেপ নিল দেশটি। ইসরাইলের এই সিদ্ধান্তকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ‘বৃহৎ ভূমি দখল’ এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আরব বিশ্বের দেশগুলো।

ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, জমির মালিকানা স্বচ্ছভাবে নির্ধারণ এবং দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, প্যালেস্টাইন অথরিটি (পিএ) নিয়ন্ত্রিত এলাকায় তথাকথিত ‘বেআইনি’ জমি নিবন্ধনের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবেই এই পদক্ষেপ। তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

মিশর, কাতার ও জর্ডান এক যৌথ প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করার একটি বিপজ্জনক অপচেষ্টা। মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। কাতার সতর্ক করে বলেছে, পশ্চিম তীরের জমিকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে ঘোষণা করার এই অপকৌশল ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকারকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করবে।

প্যালেস্টাইন অথরিটি এই ঘটনাকে কার্যত পশ্চিম তীরকে ইসরাইলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সংযুক্ত করার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখছে। তারা একে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করে জরুরি আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণবিরোধী সংগঠন ‘পিস নাও’ এই সিদ্ধান্তকে একটি ‘মেগা ল্যান্ড গ্র্যাব’ বা বিশাল ভূমি দখল হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই নিবন্ধন কার্যক্রম মূলত ‘এরিয়া সি’ অঞ্চলে পরিচালিত হবে। পশ্চিম তীরের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা নিয়ে গঠিত এই অঞ্চলটি বর্তমানে ইসরাইলের পূর্ণ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফিলিস্তিনিরা এই অঞ্চলটিকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করলেও ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো এখানে পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় মরিয়া।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা ১৯৯০-এর দশকের অসলো চুক্তির তোয়াক্কা না করেই বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ অনুমোদন করে। এর ফলে এখন থেকে ইহুদিরা সরাসরি পশ্চিম তীরের জমি কিনতে পারবে এবং ফিলিস্তিনি নিয়ন্ত্রিত বেশ কিছু ধর্মীয় স্থানে ইসরাইলি প্রশাসন সরাসরি তত্ত্বাবধান করবে। বর্তমানে পূর্ব জেরুজালেম বাদে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন বসতিতে প্রায় ৫ লাখের বেশি ইসরাইলি বসবাস করছেন, যা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ। অন্যদিকে, একই অঞ্চলে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরও চরমে পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।