বাংলাদেশে দীর্ঘ ১৬ বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অবশেষে নতুন সরকার শপথ নিতে যাচ্ছে। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের দিন ধার্য করা হয়েছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে বৈশ্বিক গুরুত্ব দিতে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে ভারত, চীন, পাকিস্তানসহ বিশ্বের ১৩টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শনিবার রাতে সরকারের উচ্চপদস্থ এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শপথের সময়সূচি ও ভেন্যু: সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন। এর আগে একই দিন সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা (এমপি) শপথ গ্রহণ করবেন। সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। অনুষ্ঠানটি ঘিরে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় এরই মধ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা ও প্রটোকল সংক্রান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রায় এক হাজার দেশি-বিদেশি অতিথি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আমন্ত্রিত দেশের তালিকা: কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আমন্ত্রিত ১৩টি দেশের তালিকায় রয়েছে—ভারত, চীন, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ এবং ভুটান। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা ‘সার্ক’-কে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে সার্কভুক্ত দেশগুলোর সব নেতাকেই এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিতব্য নতুন সরকার শুরু থেকেই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ‘পারস্পরিক মর্যাদা ও সমতা’র ভিত্তিতে সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দিয়েছে।
মোদি ও আঞ্চলিক নেতাদের অংশগ্রহণ: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ও কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, একই সময়ে ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক এবং দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’ থাকায় মোদির পক্ষে সশরীরে ঢাকা আসা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে তাঁর পরিবর্তে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণান অথবা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর শপথ অনুষ্ঠানে নয়াদিল্লির প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসহ অন্যান্য আঞ্চলিক নেতাদের উপস্থিতির বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর তারেক রহমান ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নতুন এই সরকারের শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অভূতপূর্বভাবে জোরদার করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 



















