ঢাকা ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

গাইবান্ধা-৪ আসনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ: জামায়াত প্রার্থীর ফলাফল প্রত্যাখ্যান, পুনঃভোট ও গণনার দাবি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৪:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে ব্যাপক অনিয়ম, কেন্দ্র দখল ও ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য সমর্থিত ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. মো. আব্দুর রহিম সরকার। তিনি এই আসনের ঘোষিত ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে সুনির্দিষ্ট পাঁচটি কেন্দ্রে পুনঃভোট গ্রহণ এবং অবশিষ্ট সকল কেন্দ্রে ভোট পুনঃগণনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ডা. আব্দুর রহিম সরকার অভিযোগ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার নির্বাচনি এলাকায় নজিরবিহীন অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, নির্বাচনের দিন বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কেন্দ্রে জোরপূর্বক প্রবেশ করে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেন। এরপর তারা ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে জাল ভোট প্রদান করেন।

ডা. মো. আব্দুর রহিম সরকার পাঁচটি কেন্দ্রের নাম উল্লেখ করে সুনির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন:
বালুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র-১২০): এই কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে ৬০-৭০ জন বহিরাগত ব্যক্তি ব্যালট ছিনতাই করে জাল ভোট দেন।
কুমিরাডাঙ্গা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র-১২৪): প্রায় ৮০-৯০ জন বহিরাগত প্রবেশ করে জোরপূর্বক জাল ভোট প্রদান করে।
গোপালপুর ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র-১২৫): ৬৫-৭০ জন ব্যক্তি কেন্দ্রে প্রবেশ করে পোলিং অফিসারদের জিম্মি করে ব্যালট পেপারে সিল মারেন।
কোচারশহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র-১০৫): পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে ব্যাপক হারে জাল ভোট প্রদান করা হয়।
দামগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র-১২৭): শতাধিক বহিরাগত কেন্দ্রে প্রবেশ করে ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে সিল মারে।

এই প্রার্থী ভোট গণনার সময়ও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, গণনার সময় অনেক কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ১২০টি ব্যালটকে ১০০টির বান্ডিল হিসেবে এবং ধানের শীষ প্রতীকের ৮০টি ব্যালটকে ১০০টির বান্ডিল হিসেবে গণনা করা হয়েছে। এমনকি ধানের শীষের বান্ডিলে দাঁড়িপাল্লার ভোট ঢুকিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন। ডা. রহিম আরও বলেন, একটি কেন্দ্রে ১,৮০০ ভোটের স্থলে ২,৮০০ ভোট দেখানো হয়েছে, যেখানে তার এজেন্টের কোনো স্বাক্ষর নেই।

ডা. মো. আব্দুর রহিম সরকার জানান, এসব অনিয়মের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও রিটার্নিং অফিসারকে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো হলেও তারা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। তিনি বলেন, অনিয়মের স্থিরচিত্র, ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী তাদের কাছে রয়েছে।

এমতাবস্থায় তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি গাইবান্ধা-৪ আসনের ঘোষিত ফলাফল স্থগিত করে উল্লিখিত পাঁচটি কেন্দ্রে পুনঃভোট এবং বাকি কেন্দ্রগুলোতে ভোট পুনঃগণনার মাধ্যমে সংশোধিত ফলাফল ঘোষণার জোর দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে জেলার পাঁচটি আসনের আরও চারজন নির্বাচিত জামায়াত প্রার্থী এবং ফলাফল প্রত্যাখ্যান করা প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে অ্যামাজনের ডেটা সেন্টারে ড্রোন হামলা, বিশ্বব্যাপী সেবা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা

গাইবান্ধা-৪ আসনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ: জামায়াত প্রার্থীর ফলাফল প্রত্যাখ্যান, পুনঃভোট ও গণনার দাবি

আপডেট সময় : ০৫:৪৪:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে ব্যাপক অনিয়ম, কেন্দ্র দখল ও ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য সমর্থিত ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. মো. আব্দুর রহিম সরকার। তিনি এই আসনের ঘোষিত ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে সুনির্দিষ্ট পাঁচটি কেন্দ্রে পুনঃভোট গ্রহণ এবং অবশিষ্ট সকল কেন্দ্রে ভোট পুনঃগণনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ডা. আব্দুর রহিম সরকার অভিযোগ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার নির্বাচনি এলাকায় নজিরবিহীন অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, নির্বাচনের দিন বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কেন্দ্রে জোরপূর্বক প্রবেশ করে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেন। এরপর তারা ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে জাল ভোট প্রদান করেন।

ডা. মো. আব্দুর রহিম সরকার পাঁচটি কেন্দ্রের নাম উল্লেখ করে সুনির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন:
বালুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র-১২০): এই কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে ৬০-৭০ জন বহিরাগত ব্যক্তি ব্যালট ছিনতাই করে জাল ভোট দেন।
কুমিরাডাঙ্গা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র-১২৪): প্রায় ৮০-৯০ জন বহিরাগত প্রবেশ করে জোরপূর্বক জাল ভোট প্রদান করে।
গোপালপুর ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র-১২৫): ৬৫-৭০ জন ব্যক্তি কেন্দ্রে প্রবেশ করে পোলিং অফিসারদের জিম্মি করে ব্যালট পেপারে সিল মারেন।
কোচারশহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র-১০৫): পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে ব্যাপক হারে জাল ভোট প্রদান করা হয়।
দামগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র-১২৭): শতাধিক বহিরাগত কেন্দ্রে প্রবেশ করে ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে সিল মারে।

এই প্রার্থী ভোট গণনার সময়ও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, গণনার সময় অনেক কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ১২০টি ব্যালটকে ১০০টির বান্ডিল হিসেবে এবং ধানের শীষ প্রতীকের ৮০টি ব্যালটকে ১০০টির বান্ডিল হিসেবে গণনা করা হয়েছে। এমনকি ধানের শীষের বান্ডিলে দাঁড়িপাল্লার ভোট ঢুকিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন। ডা. রহিম আরও বলেন, একটি কেন্দ্রে ১,৮০০ ভোটের স্থলে ২,৮০০ ভোট দেখানো হয়েছে, যেখানে তার এজেন্টের কোনো স্বাক্ষর নেই।

ডা. মো. আব্দুর রহিম সরকার জানান, এসব অনিয়মের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও রিটার্নিং অফিসারকে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো হলেও তারা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। তিনি বলেন, অনিয়মের স্থিরচিত্র, ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী তাদের কাছে রয়েছে।

এমতাবস্থায় তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি গাইবান্ধা-৪ আসনের ঘোষিত ফলাফল স্থগিত করে উল্লিখিত পাঁচটি কেন্দ্রে পুনঃভোট এবং বাকি কেন্দ্রগুলোতে ভোট পুনঃগণনার মাধ্যমে সংশোধিত ফলাফল ঘোষণার জোর দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে জেলার পাঁচটি আসনের আরও চারজন নির্বাচিত জামায়াত প্রার্থী এবং ফলাফল প্রত্যাখ্যান করা প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন।