একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-৪ (মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী) আসনে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী লুৎফুজ্জামান বাবর বিপুল সংখ্যক ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার এই বিজয়ের পাশাপাশি, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অন্য তিন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন।
নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ১ লাখ ৬০ হাজার ৮০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার ৩৯ হাজার ৩০৯ ভোট পেয়েছেন।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কমিউনিস্ট পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা আশানুরূপ ভোট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার কাস্তে প্রতীকে ৩ হাজার ৩৫৯ ভোট, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী চম্পা রানী সরকার কোদাল প্রতীকে মাত্র ২৮২ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখলেসুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে ২ হাজার ২৫ ভোট পেয়েছেন। নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বৈধ ভোটের অন্তত ১২.৫ শতাংশ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এই ক্ষেত্রে, নেত্রকোনা-৪ আসনে ২৫ হাজার ৭৮৮টি ভোট পেলে জামানত ফেরত পাওয়ার কথা ছিল। সেই হিসেবে, উল্লিখিত তিন প্রার্থীই তাদের জামানত হারিয়েছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, নেত্রকোনা-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩১২ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ৬ হাজার ৩০৭টি বৈধ ভোট পড়েছে এবং ৬ হাজার ১০৬টি ভোট বাতিল হয়েছে। এই আসনে ভোট পড়েছে শতকরা ৫৬.৬০ ভাগ।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লুৎফুজ্জামান বাবর হাওর এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। তার এই জনপ্রিয়তা এবং এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডই তাকে বিপুল ভোটে জয়ী হতে সাহায্য করেছে। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অন্য দলগুলোর জামানত হারানোয় এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কোনো প্রার্থী মোট কাস্টিং বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট পেলে তার জামানত রক্ষা হয়। অন্যথায়, সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হয় না। এই নিয়ম অনুযায়ী, জলি তালুকদার এবং চম্পা রানী সরকার তাদের প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে জামানত ফেরত পাওয়ার যোগ্য নন।
রিপোর্টারের নাম 























