ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগে এক অভাবনীয় বিজয়ের নজির স্থাপন করেছেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, যিনি “হাজী মুজিব” নামে পরিচিত। তিনি এই আসনে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে নিজ দলের জন্য এক গৌরবময় অর্জন এনে দিয়েছেন। পোস্টাল ভোটসহ তিনি ধানের শীষ প্রতীকে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৭ ভোট পেয়েছেন, যা তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি।
এই আসনে ১১ দলীয় ঐক্যজোট সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা নূরে আলম হামিদী রিকশা প্রতীকে ৫০ হাজার ২০৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন। এছাড়াও, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মহসিন মিয়া মধু ফুটবল প্রতীকে ৩৩ হাজার ৯১১ ভোট লাভ করেছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের দমন-পীড়নের মুখেও হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী মাঠে সক্রিয় ছিলেন। তাকে বহুবার কারাবরণ করতে হয়েছে এবং দলের নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সবসময়। তার এই কর্মী-বান্ধব পরিচিতি এবং অতীত ত্যাগ-তিতিক্ষাই তাকে এই বিপুল বিজয়ে সহায়তা করেছে বলে তারা মনে করেন। সিলেট বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হওয়ায় দলের পক্ষ থেকে তাকে মন্ত্রীসভায় স্থান দেওয়ার জোরালো প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী এই বিজয়কে এলাকার মানুষের ভালোবাসার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এলাকার মানুষের ভালোবাসার জন্য আমি তাদের কাছে চির ঋণী থাকব।” তিনি আরও জানান, জনগণ ধানের শীষকে যে সম্মান দেখিয়েছেন, তার প্রতিদান হিসেবে তিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাবেন।
হাজী মুজিব ২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেবার প্রথম দেড় ঘণ্টায় তিনি ৯৩ হাজার ২৯৫ ভোট পেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তার এজেন্টদের বের করে দিয়ে জালভোটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়লাভ করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে সেবারও তিনি বিপুল ভোটে জিততেন বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। জনগণের দেওয়া এই দায়িত্ব তিনি যেন সম্মানের সাথে পালন করতে পারেন, সেই জন্য তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 























