ঢাকা ০১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

নির্বাচনে পরাজয় সত্ত্বেও বিজয়ী প্রার্থীর বাড়িতে ফুল নিয়ে গেলেন জামায়াত নেতা, নজির গড়লেন শিশির মনির

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৬:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে এক ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নাছির চৌধুরীর কাছে পরাজিত হওয়ার পরও তিনি হার স্বীকার করে নিয়ে বিজয়ী প্রার্থীকে শুভেচ্ছা জানাতে ভোলেননি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাল গোলাপের শুভেচ্ছা জানানোর পর আজ শুক্রবার দুপুরে তিনি সশরীরে নাছির চৌধুরীর বাসভবনে উপস্থিত হয়ে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান।

শিশির মনিরের এই সৌজন্যমূলক আচরণ মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। হাওর অঞ্চলের মানুষ এই ঘটনাটিকে রাজনীতির সুস্থ ধারার এক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। অনেকেই শিশির মনিরের এই মহানুভবতার জন্য তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

দিরাই-শাল্লার প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিবির সভাপতি রেজাউল ইসলাম বলেন, “নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। রাজনীতি মানে সংঘাত নয়, রাজনীতি মানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। শিশির মনির কথা দিয়েছিলেন, পরাজিত হলে তিনি বিজয়ী প্রার্থীর বাড়িতে ফুল নিয়ে যাবেন। তিনি সেই কথা রেখেছেন। শিশির মনির শুধু দিরাই-শাল্লার নয়, বরং সারা দেশের রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চান। তার এই প্রচেষ্টা অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য।”

নিজের প্রতিক্রিয়ায় অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, “নির্বাচনে হার-জিত থাকবেই। আমি হতাশ নই। যারা আমাকে মেধা, শ্রম ও অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন, আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি বলেছিলাম, হেরে গেলে জয়ী প্রার্থীর বাড়িতে ফুল নিয়ে যাব। আজ আমি সেই কথা রাখতে এসেছি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “প্রায় ৬৩ হাজার ভোট পেয়েছি, যা আমার কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি। আপনাদের ভালোবাসার কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ। জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে দিরাই-শাল্লাবাসীর অধিকার আদায়ে আমি সবসময় সোচ্চার থাকব। সরকারিভাবে না হলেও, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে হাওর অঞ্চলের উন্নয়নে আমি ভূমিকা রাখতে চাই। আমি নতুন ধারার রাজনীতি দেখতে চাই, যেখানে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে। রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনাই আমার লক্ষ্য।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক জোরদারে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে এলজিআরডি মন্ত্রীর ফলপ্রসূ আলোচনা

নির্বাচনে পরাজয় সত্ত্বেও বিজয়ী প্রার্থীর বাড়িতে ফুল নিয়ে গেলেন জামায়াত নেতা, নজির গড়লেন শিশির মনির

আপডেট সময় : ১২:০৬:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে এক ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নাছির চৌধুরীর কাছে পরাজিত হওয়ার পরও তিনি হার স্বীকার করে নিয়ে বিজয়ী প্রার্থীকে শুভেচ্ছা জানাতে ভোলেননি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাল গোলাপের শুভেচ্ছা জানানোর পর আজ শুক্রবার দুপুরে তিনি সশরীরে নাছির চৌধুরীর বাসভবনে উপস্থিত হয়ে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান।

শিশির মনিরের এই সৌজন্যমূলক আচরণ মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। হাওর অঞ্চলের মানুষ এই ঘটনাটিকে রাজনীতির সুস্থ ধারার এক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। অনেকেই শিশির মনিরের এই মহানুভবতার জন্য তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

দিরাই-শাল্লার প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিবির সভাপতি রেজাউল ইসলাম বলেন, “নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। রাজনীতি মানে সংঘাত নয়, রাজনীতি মানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। শিশির মনির কথা দিয়েছিলেন, পরাজিত হলে তিনি বিজয়ী প্রার্থীর বাড়িতে ফুল নিয়ে যাবেন। তিনি সেই কথা রেখেছেন। শিশির মনির শুধু দিরাই-শাল্লার নয়, বরং সারা দেশের রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চান। তার এই প্রচেষ্টা অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য।”

নিজের প্রতিক্রিয়ায় অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, “নির্বাচনে হার-জিত থাকবেই। আমি হতাশ নই। যারা আমাকে মেধা, শ্রম ও অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন, আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি বলেছিলাম, হেরে গেলে জয়ী প্রার্থীর বাড়িতে ফুল নিয়ে যাব। আজ আমি সেই কথা রাখতে এসেছি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “প্রায় ৬৩ হাজার ভোট পেয়েছি, যা আমার কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি। আপনাদের ভালোবাসার কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ। জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে দিরাই-শাল্লাবাসীর অধিকার আদায়ে আমি সবসময় সোচ্চার থাকব। সরকারিভাবে না হলেও, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে হাওর অঞ্চলের উন্নয়নে আমি ভূমিকা রাখতে চাই। আমি নতুন ধারার রাজনীতি দেখতে চাই, যেখানে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে। রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনাই আমার লক্ষ্য।”